আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 21:34
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

রেভ পার্টির আড়ালে মাদকের নতুন আসর, নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

Front line Bangladesh 03 Oct, 2026 • 06:10 PM
ছবির ক্যাপশন: রেভ পার্টির আড়ালে মাদকের নতুন আসর, নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক (ইডিএম), ডিজে পারফরম্যান্স ও রাতভর নাচের আয়োজন হিসেবে পরিচিত ‘রেভ পার্টি’কে ঘিরে দেশে মাদক ব্যবহারের নতুন প্রবণতার তথ্য পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন রিসোর্ট, ক্লাব ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভেন্যুতে এসব আয়োজনের বিস্তৃতি বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ডিএনসির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু আয়োজনের আড়ালে কোকেন, এমডিএমএ, কেটামিন, ইয়াবা, কুশসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ ও সেবনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে কক্সবাজারের মতো পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় এ ধরনের আয়োজন বেশি দেখা গেলেও গত দেড় থেকে দুই বছরে রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন রিসোর্ট ও ক্লাবেও রেভ পার্টির আয়োজন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো রিসোর্ট বা নির্দিষ্ট অংশ ভাড়া নিয়ে রাতভর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

গাজীপুরের রিসোর্টে অভিযান

সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের পূবাইলের একটি রিসোর্ট ক্লাবে ‘সনিক প্লাস’ নামে আয়োজিত একটি রেভ পার্টিতে অভিযান চালায় ডিএনসি। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের দাবি, সেখানে কোকেন, কুশ, এমডিএমএ, মাদক মেশানো গাম ও লজেন্স এবং বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আয়োজক ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে থাকা ডিএনসির এক কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপন গ্রুপ ও ইনস্টাগ্রামে প্রচারের মাধ্যমে প্রায় ৬০০ তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীকে ওই আয়োজনে যুক্ত করা হয়েছিল। জনপ্রতি ৬ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, প্রবেশ ফি ছাড়াও মাদক এবং কটেজ ব্যবহারের জন্য আলাদা অর্থ নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

গাজীপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল ইসলাম মিঠুন জানান, রেভ পার্টির নামে সেখানে মাদক সরবরাহ ও সেবনের তথ্য পাওয়া গেছে। আয়োজনের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

ইনস্টাগ্রামে প্রচার, পরে যাচাই-বাছাই

ডিএনসির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব আয়োজনের প্রচারণায় ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো কোনো আয়োজনের প্রচার অনুষ্ঠান শুরুর এক মাস আগেই শুরু হয়।

প্রথমে আলাদা পেজ বা গ্রুপ তৈরি করে পার্টির নাম, থিম, ডিজে লাইনআপ ও টিকিটের তথ্য প্রচার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের ভেন্যুর নাম প্রকাশ করা হয় আয়োজনের কয়েক ঘণ্টা আগে।

অংশগ্রহণের জন্য শুধু নাম ও মোবাইল নম্বর নয়, কোথাও কোথাও জাতীয় পরিচয়পত্র, ইনস্টাগ্রাম আইডিসহ বিভিন্ন তথ্য নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ডিএনসির কর্মকর্তাদের দাবি, আগের আয়োজনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরবর্তী অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ করা হয়।

ডিএনসি ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পার্টির নাম, থিম, ভেন্যু, ডিজে লাইনআপ ও টিকিটের তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক আয়োজন নির্দিষ্ট একটি সামাজিক সার্কেলকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।

বাইরে তল্লাশি, ভেতরে মাদক সরবরাহের অভিযোগ

ডিএনসির কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু রেভ পার্টিতে প্রবেশের সময় কড়াকড়ি তল্লাশি করা হলেও ভেতরে মাদক সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বাইরে থেকে মাদক নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলেও পার্টির ভেতরেই মাদক পাওয়া যায় বলে অভিযানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে কোনো নির্দিষ্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

বিদেশি ডিজে, বড় আয়োজন

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বড় আকারের রেভ পার্টিগুলোতে দেশীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বিদেশি ডিজে ও পারফরমারদেরও আনা হয়। ইতালি, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিদেশি শিল্পীদের পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচারণা চালানো হয়। তবে বিদেশি শিল্পীদের মাধ্যমে মাদক সরবরাহের যে অভিযোগ রয়েছে, সেটিও সংশ্লিষ্টদের দাবি ও তদন্তের বিষয়; প্রত্যেক আয়োজনের ক্ষেত্রে এর সত্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সিনথেটিক মাদক নিয়ে উদ্বেগ

ডিএনসি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে কেটামিন, কোকেন, আইস, মলি, এলএসডি ও ইয়াবার মতো মাদকের সন্ধান পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব উচ্চমূল্যের মাদকের বিস্তার ঠেকাতে অনলাইন প্রচারণা ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, মাদকের আমদানি, বিক্রি ও বিস্তারের বিরুদ্ধে অধিদপ্তর কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক সময়ে ডিজে ও রেভ পার্টির বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, মাদকের বেচাকেনা ও অনলাইন প্রচারণার বিরুদ্ধে ডিএনসি কাজ করছে এবং মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সংস্থাটির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রেভ পার্টির নামে বৈধ সংগীত ও বিনোদন আয়োজনের সঙ্গে মাদককেন্দ্রিক আয়োজনকে এক করে দেখা উচিত নয়। তবে যেসব আয়োজনে মাদক সরবরাহ বা সেবনের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ
রেভ পার্টির আড়ালে মাদকের নতুন আসর নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 03 Oct, 2026 • 06:10 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)