আজকের তারিখঃ 28 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 1:12
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ড: জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা

Front line Bangladesh 27 Aug, 2026 • 02:28 PM
ছবির ক্যাপশন: রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ড: জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসই হত্যাকারী—এমন দাবি করেছে রংপুর মহানগর পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

পুলিশের দাবি, দুই আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা উঠে এসেছে।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট ভোররাতে ইয়াবা সেবনের পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দেয়াল টপকে পাশের বাড়ির ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। সেখানে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করতে থাকেন।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে ভোর হয়ে গেলে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন। এ সময় তিনি দুজনকে ধমক দেন।

এরপর নিজেদের ‘মান-সম্মান’ রক্ষার কথা ভেবে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতিকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে দাবি পুলিশের।

পরে তার মরদেহ ছাদের এক পাশে টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

গণপতির স্ত্রী ও মেয়ে শব্দ শুনে ছাদে এলে তারাও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে জানায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, গণপতির স্ত্রীকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। আর মেয়েকে প্রথমে হাত দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। পরে রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

এরপর বাড়ির ভেতরে ঢুকে ঘুম থেকে জেগে থাকা গণপতির ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকেও কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

চারজনকে হত্যার পর আসামিরা বাড়িতে সিসি ক্যামেরা থাকার আশঙ্কা করেন। এরপর ছাদে থাকা পুরোনো প্লাস দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেন তারা।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে ঘরের ড্রয়ার খুলে জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয়। পরে স্বর্ণালঙ্কার ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

পুলিশের দাবি, জুমার নামাজের সময় তারা ছাদ হয়ে পাশের বাড়িতে যান এবং দেয়াল টপকে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন। তাদের ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, ময়নাতদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত দুই নারীর মরদেহ থেকে ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সময় আসামিদের চিৎকার শুনেছিলেন এক প্রতিবেশী নারী। তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। এছাড়া সীমান্ত দাস ও দখিগঞ্জ শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের জবানবন্দিও আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে।

এসব জবানবন্দি, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মহানগর পুলিশ।

তবে সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়েন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। দু-একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর অন্য প্রশ্নের কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে দ্রুত সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

ট্যাগ
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ড: জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 27 Aug, 2026 • 02:28 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)