আজকের তারিখঃ 28 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 2:17
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

প্রতারণা মামলায় আপিল গ্রহণ, জামিন পেলেন না বিদিশা

Front line Bangladesh 02 Sep, 2026 • 02:29 PM
ছবির ক্যাপশন: প্রতারণা মামলায় আপিল গ্রহণ, জামিন পেলেন না বিদিশা

রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন।

বিদিশা এরশাদের আইনজীবী মো. আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটির তামাদির সময় মওকুফ করে আপিল আবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। তবে আসামির কারাবাসের সময় সাজা ভোগের জন্য পর্যাপ্ত না হওয়ায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০০৮ সালে দায়ের করা প্রতারণার মামলায় চলতি বছরের ২০ মে বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত। ওই রায়ের পর আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলাটি ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দায়ের করেন ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশা এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পরবর্তীতে ঢাকার বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে তাদের মধ্যে চুক্তি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন বাদী। এরপর উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হলেও টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই ফেরত বা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি টাকা ফেরত কিংবা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, বিদিশা তাকে জানিয়েছিলেন—সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।

ট্যাগ
প্রতারণা মামলায় আপিল গ্রহণ জামিন পেলেন না বিদিশা
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 02 Sep, 2026 • 02:29 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)