দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার করা রিট আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এস কে তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই দুদকের পক্ষ থেকে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে সংবাদ সম্মেলন এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন আসিফ মাহমুদ।
রিটে অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর সংবাদ সম্মেলন করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। এতে দুদকের চেয়ারম্যান, কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির এক উপ-পরিচালক জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের দাবি, অনুসন্ধানের শুরুতেই কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে বক্তব্য দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। পরে ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিষয়টি ভুলবশত বলা হয়েছে বলে স্বীকার করেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
তবে রিটে দাবি করা হয়, এ বক্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রত্যাহার গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়নি। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, ওই সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। আসিফ মাহমুদ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেন।
রিটে আরও দাবি করা হয়, এসব ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার এবং ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’ লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।