আজকের তারিখঃ 28 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 3:38
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

ডার্ক ওয়েবে ৩ লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি অনলাইন জুয়া ব্যবহারকারীর তথ্য বিক্রির দাবি

Front line Bangladesh 14 Sep, 2026 • 11:37 AM
ছবির ক্যাপশন: ডার্ক ওয়েবে ৩ লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি অনলাইন জুয়া ব্যবহারকারীর তথ্য বিক্রির দাবি

ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | সাইবার ডেস্ক

বাংলাদেশি অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবহারকারীদের প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার রেকর্ডের একটি ডাটাবেজ ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছে সাইবার অপরাধীদের একটি চক্র। প্রকাশিত স্যাম্পল ডাটার একাধিক তথ্য বাস্তব ব্যক্তিদের তথ্যের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ডার্ক ওয়েবে ‘Neffex78’ নামে এবং টেলিগ্রামভিত্তিক ‘Neffex THe BlackHat’ চ্যানেলে বাংলাদেশি অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবহারকারীদের তথ্যের ডাটাবেজ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। ‘Dark Web Intelligence’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ডাটাসেট নিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ব্যবহারকারীর রেকর্ড থাকার দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডাটাবেজটিতে ব্যবহারকারীর আইডি, মার্চেন্ট, ইউজারনেম, প্লেয়ার আইডি, ভিআইপি লেভেল, অ্যাফিলিয়েট ও রেফারেল-সংক্রান্ত তথ্য, নাম, গ্রুপ, স্ট্যাটাসসহ বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল নম্বর, ইমেইল, জন্মতারিখ, রেফারেল সাইট, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত তথ্য থাকার দাবিও করা হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ডাটাবেজে সর্বশেষ ডিপোজিট, কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন স্ট্যাটাস, কেওয়াইসি রিমার্ক এবং অ্যাকাউন্টের ঝুঁকি-সংক্রান্ত তথ্য থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্যের পাশাপাশি তার জুয়া অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক কার্যক্রমসংক্রান্ত তথ্যও ফাঁস হয়ে থাকতে পারে।

হ্যাকারদের বিজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুরো ডাটাসেটের জন্য ৭৮০ মার্কিন ডলার চাওয়া হয়েছে। অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে বিটকয়েন ও মনেরোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ডাটার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের জন্য কয়েকটি স্যাম্পল ফাইলের লিংকও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনটির অনুসন্ধানে এসব স্যাম্পল ফাইলের এক্সেল শিটে থাকা একাধিক বাংলাদেশির ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের তথ্য বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মিলে গেছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে ঘটনাটি শুধু ডার্ক ওয়েবে কোনো অপরাধী চক্রের ‘ডাটা বিক্রির দাবি’ নয়—স্যাম্পল ডাটার সত্যতা যাচাইয়ের পর তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

কীভাবে তথ্য ফাঁস হলো, উঠছে প্রশ্ন

ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মোবাইল নম্বর, ইমেইল, জন্মতারিখ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের সঙ্গে কেওয়াইসি স্ট্যাটাস, সর্বশেষ ডিপোজিট ও অ্যাকাউন্টের ঝুঁকিসংক্রান্ত তথ্য অপরাধীদের হাতে গেলে তা লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং, পরিচয় জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতারণায় ব্যবহার করা হতে পারে।

হ্যাকারদের প্রকাশিত অ্যাপসংক্রান্ত ছবিতে সাইবারলট, বোনানজা, বিগ বাক্স ব্যান্ডিট, লাকি, বুক অব গডস, হোয়াইট র্যাবিট, মনোপলি মেগাওয়েজসহ বিভিন্ন অনলাইন গেম ও জুয়ার প্ল্যাটফর্মের নাম দেখা গেছে। এসব অ্যাপ বা সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক থেকে ব্যবহারকারীদের তথ্য বেহাত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ ও র‍্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এমন কোনো তথ্য পাওয়ার কথা জানায়নি। তবে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। র‍্যাব জানিয়েছে, তাদের সাইবার টিম এ ধরনের বিষয় নিয়ে নিয়মিত কাজ করে এবং সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হলে অধিকতর তদন্ত করা হয়।

‘এটি গুরুতর তথ্য ফাঁসের ঘটনা’

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, তিনি প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মিল পেয়েছেন। তাই এটিকে শুধু ডার্ক ওয়েবে করা একটি দাবি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি গুরুতর তথ্য ফাঁসের ঘটনা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, ফাঁস হওয়া মোবাইল নম্বর, ইমেইল, জন্মতারিখ, আইপি ঠিকানা, ডিভাইসের তথ্য ও কেওয়াইসি রেকর্ড ব্যবহার করে পরিচয় চুরি, ফিশিং, অ্যাকাউন্ট দখল, আর্থিক প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চালানো সম্ভব।

তিনি অনলাইন জুয়া বা সন্দেহজনক প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দুই স্তরের নিরাপত্তা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন।

একই সঙ্গে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার লেনদেন নিয়মিত পরীক্ষা করা, অপরিচিত লিংক বা অ্যাপে প্রবেশ না করা এবং ফোনে বা অনলাইনে কেউ চাইলেও ওটিপি, পিন বা অন্য কোনো যাচাইকরণ কোড না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কেউ প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে টাকা না দিয়ে স্ক্রিনশট, ফোন নম্বর, লিংক ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্ত করা এবং সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের দ্রুত সতর্ক করা।

ট্যাগ
ডার্ক ওয়েবে ৩ লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি অনলাইন জুয়া ব্যবহারকারীর তথ্য বিক্রির দাবি
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 14 Sep, 2026 • 11:37 AM
বিজ্ঞাপন (Compact)