আজকের তারিখঃ 28 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 3:40
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 5 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

জিয়াউল আহসানকে ঘিরে নিরাপত্তা কড়াকড়ি, নেপথ্যে গোয়েন্দা তথ্য

Front line Bangladesh 06 Sep, 2026 • 12:32 PM
ছবির ক্যাপশন: জিয়াউল আহসানকে ঘিরে নিরাপত্তা কড়াকড়ি, নেপথ্যে গোয়েন্দা তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে হাজির করার সময় সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কয়েক দিন আগেও তাকে স্বাভাবিকভাবে ট্রাইব্যুনালে আনা হলেও এখন হাতকড়া, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ও হেলমেট পরিয়ে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যাও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শুধু সাধারণ নিরাপত্তার কারণে নয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার সময় নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে নাশকতা বা ব্রাশফায়ার করে পালানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে একটি সূত্র। তবে এ তথ্যের স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

জিয়াউল আহসান মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলায় আসামি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে করা একটি মামলায় বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এ মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া, জিয়াউল আহসানের সাবেক দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ পর্যন্ত ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মামলায় নিহত আলকাছ মল্লিকের ভাই আব্বাস মল্লিকও ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গুম-খুনের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর জিয়াউল আহসানকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়। সম্ভাব্য নাশকতা বা স্যাবোটাজের কোনো পরিকল্পনা নিয়েও তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্রটি।

এ ছাড়া জিয়াউল আহসানের কাছে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের কারণে অন্য পক্ষের কাছ থেকেও তার ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন। এসব তথ্য পাওয়ার পর প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে বৈঠক করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এরপর ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চারদিনে বদলে গেল নিরাপত্তার চিত্র

৩১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা চার দিন জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ৩১ আগস্ট তাকে আগের মতোই প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে হাজতখানায় নেওয়া হয়। তখন তার হাতে কোনো হাতকড়া ছিল না এবং পাশে ছিলেন দুজন পুলিশ সদস্য।

১ সেপ্টেম্বরের চিত্র ছিল ভিন্ন। সেদিন তাকে হাতকড়া পরিয়ে হাজতখানায় নেওয়া হয়। তবে শরীরে কোনো বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ছিল না।

এর পরদিন ২ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়। তাকে হাতকড়া ও বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরিয়ে আনা হয়। প্রিজনভ্যান থেকে হাজতখানা পর্যন্ত দুই পাশে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।

৩ সেপ্টেম্বর আরও কড়াকড়ি দেখা যায়। এদিন জিয়াউল আহসানের দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরানো ছিল। শরীরে ছিল বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং মাথায় হেলমেট। আগে-পিছে ছিলেন বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী।

তবে এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আপত্তি জানিয়েছেন জিয়াউল আহসান। ২ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে ‘সবার টার্গেট’ উল্লেখ করে সুবিচার চান।

জিয়াউল বলেন, সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণের সময় কোমর ও ঘাড়ে ব্যথা পেয়েছিলেন। এ অবস্থায় হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরিয়ে আনা হলে তার শারীরিক সমস্যা হয়। তাই এসব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য

নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে হাতকড়া ও ভেস্ট পরিয়ে আনা হচ্ছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোনো আসামিকে কীভাবে আদালতে আনা হবে, সেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়।

জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার জানান, হাতকড়া ও ভেস্ট থেকে অব্যাহতি চেয়ে তারা আবেদন করবেন।

অন্যদিকে বিশেষ কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার তায়েফ উদ্দিন মিয়া বলেন, আসামিদের এসকর্ট দেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়। পুলিশ কীভাবে আসামিকে নিয়ে যাবে, সেটি তাদের বিষয়। তবে জিয়াউল আহসানের আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা তিনি দেখেননি বলেও জানান।

ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর

জিয়াউল আহসানকে সম্প্রতি হাতকড়া ও ভেস্ট পরিয়ে আনার কারণ জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভাবশালী আসামিদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে বা রায়ের অপেক্ষায় থাকলে ট্রাইব্যুনালে কোনো ধরনের স্যাবোটাজের চেষ্টা হতে পারে—এমন গোপন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গুমের মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। কয়েকজন সাক্ষীর বিষয়ে তাদের ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাগুলো নিয়ে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে আনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে, তা সাম্প্রতিক দিনের দৃশ্যেই স্পষ্ট।

ট্যাগ
জিয়াউল আহসানকে ঘিরে নিরাপত্তা কড়াকড়ি নেপথ্যে গোয়েন্দা তথ্য
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 06 Sep, 2026 • 12:32 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)