প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন।
তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালে সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫, ২০০২ ও ২০০৫ সালেও জাতিসংঘের বিভিন্ন সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আয়োজনে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।
জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশের মধ্যে বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন ও জলবায়ু অর্থায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। রোহিঙ্গা সংকটও সফরের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য—‘Restoring trust, managing transformation: A United Nations that delivers for all’।
এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বিশেষ দিক হলো—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জিয়া পরিবারের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।