আজকের তারিখঃ 29 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 7:36
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Front line Bangladesh 27 Aug, 2026 • 05:05 PM
ছবির ক্যাপশন: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অনন্য প্রতিভা।

মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবিকে স্মরণ করছে দেশবাসী।

কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আজ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

দ্রোহ, প্রেম ও সাম্যের কবি

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, মানবতার প্রেম ও সাম্যের চেতনায় দীপ্ত কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

শৈশব থেকেই দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন নজরুল। পরবর্তী সময়ে সাহিত্য, সংগীত ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখেন।

মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেন তিনি।

তার লেখায় যেমন অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ উঠে এসেছে, তেমনি ফুটে উঠেছে প্রেম, মানবতা ও সাম্যের চেতনা।

বহুমাত্রিক প্রতিভা

বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত হলেও নজরুলের সৃষ্টিকর্মের বিস্তার ছিল আরও অনেক বড়।

কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ ও চলচ্চিত্রে তিনি রেখেছেন স্বতন্ত্র স্বাক্ষর। পাশাপাশি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি।

সংগীতে তার সৃষ্ট অসংখ্য রাগ-রাগিনী ও গান আজও বাংলা সংগীতের অমূল্য সম্পদ।

প্রেম, বিদ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের বার্তা নিয়ে লেখা নজরুলের কবিতা ও গান শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে মানুষকে যুগে যুগে প্রেরণা জুগিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তার সৃষ্টি বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করেছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম পথিকৃৎ নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত জাতীয় জীবনে সাম্য ও মানবতার চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশে জাতীয় কবির মর্যাদা

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তাকে দেওয়া হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষ সমাবর্তনে তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি দেওয়া হয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার যে চেতনা কাজী নজরুল ইসলাম তার সাহিত্য ও সংগীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা আজও বাঙালির জাতীয় জীবনে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।

মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও তাই নজরুল কেবল স্মৃতিতে নন—তার কবিতা, গান ও আদর্শে তিনি আজও জীবন্ত।

ট্যাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 27 Aug, 2026 • 05:05 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)