আজকের তারিখঃ 29 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 8:35
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

খুলে দেওয়া হলো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ

Front line Bangladesh 02 Sep, 2026 • 03:46 PM
ছবির ক্যাপশন: খুলে দেওয়া হলো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নির্মাণকাজের ধুলাবালি ও যানজটের ভোগান্তির পর অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ। ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুই লেনবিশিষ্ট দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফিতা কেটে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আংশিক অংশের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উদ্বোধনের পরপরই সেতু দুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের দীর্ঘতম উড়াল সড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বক্তব্য দেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, তুরাগ নদের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি আর রাখা হচ্ছে না। এর পরিবর্তে সার্ভিস লেন ব্যবহার করে টোল ছাড়াই তুরাগ নদ পারাপারের সুযোগ থাকবে।

খুলে দেওয়া দুটি সেতুই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অংশ। সড়কসহ প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। এর মধ্যে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার। সেতু দুটি চালু হওয়ায় একদিকে যোগাযোগব্যবস্থায় গতি আসবে, অন্যদিকে তুরাগ নদের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহও বাধাগ্রস্ত হবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজের কারণে সড়কে ধীরগতি ও যানজটে নাকাল সাভার-আশুলিয়া এলাকার মানুষ নতুন এই সংযোগকে ভোগান্তি কমানোর সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়া হয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর। একনেকে অনুমোদনের প্রায় পাঁচ বছর পর কাজ শুরু হলেও নানা জটিলতায় দীর্ঘ সময় প্রকল্পটির অগ্রগতি ধীর ছিল।

প্রকল্পের কাজে ধীরগতির কারণে বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের লাখো মানুষকে। তবে সম্প্রতি নির্মাণকাজের গতি বাড়ায় জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে।

দ্বিতীয় দফা সংশোধনের পর প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।

সংশোধিত নকশায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন যুক্ত করার পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাইপাইলে নির্মাণ করা হবে দৃষ্টিনন্দন তিনতলা ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ।

পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে আশুলিয়া হয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগ
খুলে দেওয়া হলো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 02 Sep, 2026 • 03:46 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)