আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:47
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ শয়তানের সবচেয়ে প্রিয় কাজ

Front line Bangladesh 02 Sep, 2026 • 06:54 PM
ছবির ক্যাপশন: স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ শয়তানের সবচেয়ে প্রিয় কাজ

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো শয়তানের কাছে অত্যন্ত প্রিয় কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে হাদিসে। ইসলামী শিক্ষায় দাম্পত্য জীবনে ধৈর্য, পারস্পরিক সম্মান, ক্ষমা ও সদাচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ শুধু দুজন মানুষের সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এর প্রভাব পড়ে সন্তান ও পুরো পরিবারের ওপর।

ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, শয়তান মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি করতে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট করার মাধ্যমে একটি পরিবারকে ভেঙে দেওয়া তার অন্যতম লক্ষ্য। তাই মুমিনের উচিত এমন আচরণ থেকে বিরত থাকা, যা পরিবারে ফিতনা, কলহ ও বিচ্ছেদের পরিস্থিতি তৈরি করে।

তালাকের তিক্ত প্রভাব শুধু স্বামী ও স্ত্রীর বিচ্ছেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব সন্তানদের মানসিক অবস্থার ওপরও পড়ে। পিতা-মাতার বিচ্ছেদের কারণে অনেক সন্তান দুঃখ, অনিশ্চয়তা ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে। কখনো এর সঙ্গে মামলা-মোকদ্দমা, পারিবারিক বিরোধ এবং পারস্পরিক অভিযোগও যুক্ত হয়।

ইসলামে বিবাহকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও দৃঢ় বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বৈবাহিক অঙ্গীকারকে ‘মিসাকান গালিজা’—অর্থাৎ দৃঢ় ও গুরুতর অঙ্গীকার—হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে রাগের বশে কিংবা তুচ্ছ কোনো বিষয়ে বারবার ‘তালাক’ শব্দ উচ্চারণ করা থেকে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ভাষণেও নারীদের অধিকার ও তাদের সঙ্গে সদাচরণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কারণ তোমরা তাদের আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১৯০৫)

ইসলামী শিক্ষায় রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাকে প্রকৃত শক্তির পরিচয় বলা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করতে পারে; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (বুখারি, হাদিস: ৬১১৪)

তাই দাম্পত্য জীবনে রাগ, অহংকার কিংবা প্রতিশোধের পরিবর্তে ধৈর্য ও সংযমের চর্চা করা জরুরি। বিশেষ করে রাগের মুহূর্তে এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়, যার পরিণতি পরবর্তীতে অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণের ব্যাপারেও ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদ্ভাবে জীবন যাপন করো। যদি তাদের অপছন্দ করো, তবে এমন হতে পারে যে তোমরা কোনো কিছুকে অপছন্দ করছ অথচ আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রেখেছেন।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত: ১৯)

অন্যদিকে মহানবী (সা.) কোমলতার গুরুত্ব বোঝাতে বলেছেন, ‘কোনো বিষয়ে কোমলতা থাকলে তা তাকে সুন্দর করে তোলে; আর কোনো বিষয় থেকে কোমলতা সরিয়ে নেওয়া হলে তা তাকে কুৎসিত করে দেয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ২৪৭৮)

তাই সংসারে মতবিরোধ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে ধৈর্য, পারস্পরিক আলোচনা ও সংযমের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। প্রকৃত শক্তি দুর্বল কারও ওপর কঠোরতা দেখানোর মধ্যে নয়; বরং নিজের রাগ, আবেগ ও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যেই প্রকৃত শক্তির প্রকাশ।

দাম্পত্য জীবনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাই আল্লাহভীতি, পারস্পরিক সম্মান, ক্ষমাশীলতা এবং সুন্দর আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ একটি পরিবারের শান্তি শুধু স্বামী-স্ত্রীর নয়, তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও পুরো পরিবারের কল্যাণের সঙ্গেও জড়িত।

ট্যাগ
স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ শয়তানের সবচেয়ে প্রিয় কাজ
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 02 Sep, 2026 • 06:54 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)