সন্তানের জন্মের পর আকিকা করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। সাধারণত নবজাতকের জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম। তবে কোনো কারণে ওই দিন আকিকা করা সম্ভব না হলে পরবর্তী সময়ে তা করা যায়। ছেলের জন্য দুটি ছাগল বা খাসি এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল বা খাসি জবাই করা মুস্তাহাব। আকিকার গোশত কাঁচা বিতরণ করা কিংবা রান্না করে আত্মীয়স্বজন ও অন্যদের খাওয়ানো—উভয় পদ্ধতিই জায়েজ। তবে রান্না করে খাওয়ানো উত্তম বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন।
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, আকিকা সপ্তম দিনে করা হবে। তা সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে এবং তাও সম্ভব না হলে একুশতম দিনে করা যেতে পারে। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস: ৭৬৬৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সন্তানের সঙ্গে আকিকার বিধান রয়েছে। তাই সন্তানের পক্ষ থেকে পশু জবাই করতে এবং তার মাথার চুল দূর করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪৭২)
ছেলের ও মেয়ের আকিকার নিয়ম
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ছেলের জন্য দুটি ছাগল বা খাসি এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল বা খাসি জবাই করা উত্তম। তবে সামর্থ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিষয়ে আলেমদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। আকিকার উদ্দেশ্যে উপযুক্ত পশু জবাই করার মাধ্যমে আকিকা আদায় হয়।
সুনানে আবু দাউদের ২৮৩৮ নম্বর হাদিসে নবজাতকের আকিকা, সপ্তম দিনে পশু জবাই, মাথার চুল মুণ্ডন এবং নাম রাখার বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।
আকিকার গোশত কীভাবে বিতরণ করবেন?
আকিকার গোশত কাঁচা বিতরণ করা যায়। আবার রান্না করে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের খাওয়ানোও জায়েজ। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, আকিকার গোশত টুকরো করে রান্না করে নিজে খাওয়া এবং অন্যকে খাওয়ানোর কথা উল্লেখ রয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদিস: ২৪৭৪৪)
ইমাম নববী (রহ.) ও ইবনে কুদামা (রহ.)-এর বক্তব্যের আলোকে অনেক আলেম আকিকার গোশত রান্না করে মানুষকে খাওয়ানোকে উত্তম বলেছেন।
তবে মনে রাখতে হবে, আকিকার গোশত কাঁচা বিতরণ করলেও আকিকা আদায়ে কোনো সমস্যা নেই। রান্না করে খাওয়ানোকে উত্তম বলা হলেও এটিকে বাধ্যতামূলক মনে করা ঠিক নয়।
সারকথা: সন্তানের জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম। ছেলের জন্য দুটি এবং মেয়ের জন্য একটি পশু জবাই করা মুস্তাহাব। আর আকিকার গোশত কাঁচা বিতরণ বা রান্না করে খাওয়ানো—দুটিই বৈধ।