বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে মার্কিন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সামাজিক সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) স্পিকারের কার্যালয়ে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাকসোদা মাকসোদির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অংশীদারত্বের ধারাবাহিকতায় উইনরক ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকির কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম কার্বন নিঃসরণ করলেও কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয়, হাওর ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।
তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বহুমুখীকরণ, কৃষিপণ্য উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এসব অর্থ পুনরুদ্ধারে তিনি মার্কিন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।