আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:48
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

স্বামীকে হারিয়েও ইসলামের জন্য কাজ করে গেছেন হামনা (রা.)

Front line Bangladesh 29 Aug, 2026 • 03:25 PM
ছবির ক্যাপশন: স্বামীকে হারিয়েও ইসলামের জন্য কাজ করে গেছেন হামনা (রা.)

ধর্ম ডেস্ক

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকটাত্মীয়দের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত হামনা বিনতে জাহাশ (রা.)। তিনি ছিলেন মহানবী (সা.)-এর ফুফু উমাইমা বিনতে আবদিল মুত্তালিবের কন্যা। সে হিসেবে তিনি রাসুল (সা.)-এর ফুফাতো বোন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন মহানবী (সা.)-এর শালীও।

হজরত হামনা (রা.) ইসলামের একেবারে শুরুর যুগেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তার পুরো পরিবারও ইসলাম গ্রহণ করেছিল। মক্কায় মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকলে তিনি পরিবারের সঙ্গে মদিনায় হিজরত করেন।

মহানবী (সা.) ও তার স্বামী হজরত মুসআব ইবনে উমাইর (রা.)-এর কাছ থেকে ইসলামী জ্ঞান অর্জন করেন হামনা (রা.)। জ্ঞান ও চরিত্রের গুণে তিনি মদিনার সমাজে সম্মানিত একজন মুসলিম নারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার এক কন্যাসন্তান ছিলেন, যার নাম যায়নাব বিনতে মুসআব।

উহুদের ময়দানে আহতদের সেবা

ইসলামের ইতিহাসে হজরত হামনা (রা.) বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন উহুদ যুদ্ধে আহতদের সেবা ও পানি পান করানোর জন্য।

উহুদের যুদ্ধে কয়েকজন সাহাবিয়ার সঙ্গে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সাহাবি হজরত কাব ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইম বিনতে মিলহান (রা.) ও উম্মুল মুমিনীন আয়শা (রা.)-কে পানির মশক বহন করতে দেখেছেন। আর হামনা বিনতে জাহাশ (রা.)-কে পিপাসার্তদের পানি পান করাতে এবং আহতদের সেবা করতে দেখেছেন।

এতে বোঝা যায়, যুদ্ধের ময়দানে সাহাবিয়ারা শুধু উপস্থিতই ছিলেন না; বরং আহতদের চিকিৎসা, পানি সরবরাহ ও অন্যান্য মানবিক দায়িত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

উহুদে হারালেন স্বামী ও স্বজনদের

উহুদের যুদ্ধে হামনা (রা.)-এর স্বামী হজরত মুসআব ইবনে উমাইর (রা.), তার মামা ও ভাইসহ প্রায় ৭০ জন সাহাবি শাহাদাতবরণ করেন।

স্বামী মুসআব (রা.)-এর শাহাদাতের সংবাদ শুনে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হামনা (রা.) কান্নায় ভেঙে পড়েন। মহানবী (সা.) তাকে সান্ত্বনা দেন এবং তার ও সন্তানদের জন্য দোয়া করেন।

পরবর্তীতে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবি হজরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

খায়বার যুদ্ধেও অংশগ্রহণ

উহুদের পর হজরত হামনা (রা.) খায়বার যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন বলে বর্ণনায় পাওয়া যায়।

হজরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.)-এর ঘরে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পর তাকে নিয়ে মহানবী (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হন এবং শিশুটির নাম রাখতে অনুরোধ করেন। রাসুল (সা.) তার নাম রাখেন ‘মুহাম্মদ’।

হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবিয়া

হজরত হামনা (রা.) শুধু যুদ্ধের ময়দানে দায়িত্ব পালনকারী সাহাবিয়া ছিলেন না; তিনি ছিলেন হাদিস বর্ণনাকারীও। রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে শেখা কয়েকটি হাদিস তিনি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বর্ণনা করেন।

তার জীবন ইসলামের প্রাথমিক যুগের মুসলিম নারীদের ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। ঈমান, জ্ঞানচর্চা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং যুদ্ধের কঠিন সময়ে আহতদের সেবা—সব ক্ষেত্রেই তার অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।

হজরত হামনা (রা.) ২০ হিজরির পর ইন্তেকাল করেন। ইসলামের ইতিহাসে তার জীবন একজন সাহাবিয়ার ঈমান, ত্যাগ, ধৈর্য ও মানবসেবার অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়।

ট্যাগ
স্বামীকে হারিয়েও ইসলামের জন্য কাজ করে গেছেন হামনা (রা.)
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 29 Aug, 2026 • 03:25 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)