আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:46
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

যেসব কারণে দোয়া কবুলে বাধা সৃষ্টি হয়

Front line Bangladesh 04 Sep, 2026 • 04:44 PM
ছবির ক্যাপশন: যেসব কারণে দোয়া কবুলে বাধা সৃষ্টি হয়

ধর্ম ডেস্ক

মানুষ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নিজের প্রয়োজন, আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মহান আল্লাহর কাছে হাত পাতে। মুমিনের জন্য দোয়া হলো আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম এবং বিপদ-আপদে বড় আশ্রয়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৬)

দোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসেও বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তবে দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে বান্দার জীবনযাপন, উপার্জন, খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক অবস্থারও গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে হারাম উপার্জন ও হারাম খাদ্য থেকে বেঁচে থাকার বিষয়ে কোরআন-হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু (হালাল) হতে ভক্ষণ করো এবং নেক কাজ করো।’ (সুরা মুমিনুন: ৫১)

আর মুমিনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হে মুমিনগণ, আমি তোমাদের যে হালাল রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর জন্য শোকর কর, যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদত কর।’ (সুরা বাকারা: ১৭২)

হাদিসের বর্ণনায় দোয়া কবুলের পথে কয়েকটি বিষয়কে বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—

হারাম উপার্জন ও হারাম খাদ্য

হারাম উপার্জন, খাদ্য ও পানীয় দোয়া কবুলের পথে বড় বাধা হিসেবে হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে দীর্ঘ সফরে থাকা অবস্থায় আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করে; কিন্তু তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হারাম এবং তার জীবিকা হারাম—এ অবস্থায় তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?

এ থেকে বোঝা যায়, দোয়া করার পাশাপাশি উপার্জন ও খাদ্যকে হালাল রাখার বিষয়েও একজন মুমিনকে সতর্ক থাকতে হবে।

দোয়া করে হতাশ হয়ে যাওয়া

দোয়া করার পর দ্রুত ফল না পেয়ে হতাশ হয়ে যাওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে বলে—‘আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হলো না।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩৪০)

অর্থাৎ দোয়া করার পর আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে আশা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। দোয়ার ফল কখন এবং কীভাবে আসবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন।

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ প্রতিরোধের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করার দায়িত্ব ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, মানুষ যদি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ প্রতিরোধ না করে, তাহলে আল্লাহর শাস্তি আসতে পারে এবং তখন তারা দোয়া করলেও তা কবুল নাও হতে পারে। (জামে তিরমিজি: ২১৬৯)

তাই শুধু নিজের জন্য দোয়া করাই নয়, আল্লাহর নির্দেশিত দায়িত্ব পালনের প্রতিও যত্নবান হওয়া জরুরি।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাকে গুরুতর গুনাহ হিসেবে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, কোনো মুসলিম এমন কোনো গুনাহের কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া না করলে আল্লাহ তার দোয়ার বিনিময়ে তাকে তিনটির কোনো একটি দান করেন—হয় তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় দুনিয়াতেই দেন, অথবা তা আখিরাতের জন্য সঞ্চিত রাখেন, কিংবা তার কোনো অকল্যাণ বা বিপদ দূর করে দেন। (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব: ১৬৩৩)

তাই আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ন রাখা এবং সম্পর্ক নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

অমনোযোগী ও অসাড় মনে দোয়া করা

দোয়ার সময় মনোযোগ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার ওপরও হাদিসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো, আল্লাহ অমনোযোগী ও অসাড় মনের দোয়া কবুল করেন না।’ (জামে তিরমিজি: ৩৪৭৯)

তাই দোয়ার সময় শুধু মুখে শব্দ উচ্চারণ না করে অন্তর থেকে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা এবং তাঁর রহমতের ওপর আস্থা রাখা উচিত।

দোয়ার সঙ্গে জীবনও শুদ্ধ করা জরুরি

দোয়া মুমিনের অন্যতম বড় আশ্রয়। তবে দোয়ার পাশাপাশি নিজের উপার্জন, খাদ্য, আমল, পারিবারিক সম্পর্ক ও অন্তরের অবস্থার প্রতিও নজর দেওয়া জরুরি। হারাম থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর নির্দেশ পালন করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ধৈর্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে দোয়া করা একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ
যেসব কারণে দোয়া কবুলে বাধা সৃষ্টি হয়
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 04 Sep, 2026 • 04:44 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)