পবিত্র মক্কা নগরীর ঐতিহাসিক এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম জারওয়াল। এ এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাচীন কূপ পরিচিত ‘বীরে তুয়া’ বা ‘তুয়া কূপ’ নামে। ইসলামের ইতিহাস ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা বিজয়ের স্মৃতির সঙ্গে এ কূপের নাম জড়িয়ে আছে।
ইসলামী ঐতিহ্য ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মক্কা বিজয়ের সময় মহানবী (সা.) মক্কায় প্রবেশের আগে তুয়া কূপের কাছে অবস্থান করেছিলেন। সেখান থেকে মক্কায় প্রবেশের আগে তিনি কূপের পানি দিয়ে গোসল করেছিলেন বলে বর্ণনা রয়েছে।
সহিহ বুখারিতে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণনায় তুয়া কূপের উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি মক্কার দিকে যাওয়ার সময় বীরে তুয়ার কাছে রাতযাপন করতেন এবং পরদিন মক্কায় প্রবেশ করতেন। মক্কা থেকে ফেরার সময়ও তিনি সেখানে রাত কাটাতেন। ইবনে ওমর (রা.) বলতেন, মহানবী (সা.)-ও এমনটি করতেন।
মক্কা বিজয়ের আগের রাতেও মহানবী (সা.) এই এলাকায় অবস্থান করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক ও ইসলামী বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। পরদিন সকালে মক্কায় প্রবেশের আগে তুয়া কূপের পানিতে গোসল করার বর্ণনাও পাওয়া যায়।
বর্তমানে কূপটির চারপাশে সুরক্ষার জন্য দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এটি মক্কার মসজিদুল হারামের দিকে যাওয়ার সড়কের পাশে অবস্থিত বলে জানা যায়।
জারওয়াল এলাকা মক্কার স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের কাছেও পরিচিত। বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ফল ও সবজি সংগ্রহের জন্যও মানুষ এ এলাকায় যাতায়াত করেন।
ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থান হিসেবে তুয়া কূপকে ঘিরে আগ্রহ রয়েছে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের। তবে কূপটি পরিদর্শন বা এর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ধর্মীয় আমল পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও ইসলামী শরিয়তের নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
তুয়া কূপ মূলত একটি ঐতিহাসিক স্থান—এর গুরুত্ব মহানবী (সা.)-এর মক্কা বিজয় ও ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণিত আমলের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে।