নামাজ মুমিনের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে একজন বান্দা আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক দৃঢ় করে। তবে নামাজে দাঁড়ানোর পর অনেক সময় নানা দুনিয়াবি চিন্তা, পুরোনো ঘটনা কিংবা অপ্রয়োজনীয় ভাবনা মনে এসে একাগ্রতা নষ্ট করে দেয়।
হাদিসে নামাজের সময় মানুষের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য বিশেষ এক শ্রেণির শয়তানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর নাম ‘খিনজিব’।
হজরত উসমান ইবনু আবুল আস (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, শয়তান তার ও নামাজ-কিরাতের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং নামাজকে তার কাছে এলোমেলো করে দেয়।
জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এটি এমন এক শয়তান যার নাম খিনজিব। যখন তার উপস্থিতি অনুভব করবে, তখন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে তিনবার বাম দিকে থুতু নিক্ষেপ করবে।
হজরত উসমান (রা.) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী আমল করার পর আল্লাহ তার কাছ থেকে ওই সমস্যা দূর করে দেন। (সহিহ মুসলিম)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নামাজে মনোযোগ ধরে রাখা কখনো কখনো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং নামাজে মনোযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা উচিত।
ইবাদতের সময় অপ্রয়োজনীয় চিন্তা এসে গেলে নিজের মনকে আবার নামাজের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আল্লাহর স্মরণ, নামাজের অর্থ ও নিজের দাঁড়িয়ে থাকার উদ্দেশ্য মনে রাখাও একাগ্রতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।