ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | ইসলাম ডেস্ক
জামাতে নামাজ আদায়ের সময় কাতার সোজা রাখা এবং কাতারের মধ্যে ফাঁকা জায়গা না রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। কাতার সোজা না রাখার বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সতর্কবার্তাও তুলে ধরেছেন তিনি।
নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক আলোচনায় এ বিষয়ে কথা বলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তিনি বলেন, নামাজে কাতার সোজা রাখা জামাতের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। কাতার বাঁকা রাখার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। হাদিসে কাতার সোজা করার গুরুত্ব এবং মুসল্লিদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা এসেছে।
ইমাম ও মুসল্লিদের করণীয়
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইমামতি করার সময় নামাজ শুরুর আগে সাহাবিদের কাতার সোজা করার নির্দেশ দিতেন। তাই ইমামের দায়িত্ব হলো একামতের পর জামাত শুরু করার আগে মুসল্লিদের কাতার ঠিকভাবে দাঁড়ানোর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া।
সম্ভব হলে ইমাম কাতারে কোথাও বাঁক বা অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর দেবেন। মুসল্লিদেরও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে কাতারে দাঁড়ানোর প্রতি যত্নশীল হতে হবে।
কাতার চেনার ব্যবস্থা
মসজিদের কার্পেট বা প্লাস্টিকের নকশায় কাতারের রেখা স্পষ্ট না হলে মুসল্লিদের সুবিধার জন্য কাতার চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে জামাতে দাঁড়ানোর সময় কাতার সোজা রাখা সহজ হয়।
শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, কাতারে অযথা ফাঁকা জায়গা রাখাও ঠিক নয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসল্লিদের কাতার পূর্ণ ও সংযুক্ত রাখার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।
ফাঁকা জায়গা না রাখার নির্দেশনা
কাতারের মধ্যে ফাঁকা জায়গা না রাখার বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মুসল্লিদের কাতারের ফাঁকা স্থান পূরণ করে দাঁড়ানো উচিত এবং কাতারের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
নামাজের কাতার সোজা ও সুশৃঙ্খল রাখা শুধু বাহ্যিক শৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি জামাতের ঐক্য, পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণেরও অংশ।