ইসলামে বিশেষ পরিস্থিতিতে একজন পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই অনুমতি সীমাহীন নয়; এর সঙ্গে ন্যায়বিচার, দায়িত্বশীলতা ও সামর্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত রয়েছে। কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ন্যায়বিচার করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে একজন স্ত্রীতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে এতিমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্যে তোমাদের পছন্দমতো দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে করো। কিন্তু যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকেই।’—সুরা আন-নিসা, আয়াত ৩।
ইসলামী ব্যাখ্যায়, আয়াতটি একাধিক বিয়ের অনুমতির পাশাপাশি এর গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে ‘আদল’ বা ন্যায়বিচারকে সামনে এনেছে। ফলে একাধিক বিয়ে কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়; বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনুমোদিত একটি ব্যবস্থা।
ন্যায়বিচার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
একাধিক স্ত্রী থাকলে স্বামীর ওপর তাদের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করার দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে ভরণপোষণ, বাসস্থান, পোশাক ও প্রয়োজনীয় খরচের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা বজায় রাখতে হবে।
একইভাবে স্ত্রীদের সঙ্গে সময় ও রাতযাপনের ক্ষেত্রেও সমতা রক্ষা করা জরুরি। একজনের প্রতি পক্ষপাত করে অন্যজনকে বঞ্চিত করা ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার দুই স্ত্রী রয়েছে এবং সে তাদের একজনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, কিয়ামতের দিন সে এক পাশ ঝুঁকে থাকা অবস্থায় উপস্থিত হবে। (সুনান আবু দাউদ, ২১৩৩)
আচরণেও ভারসাম্য
শুধু অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন করলেই ন্যায়বিচারের বিষয়টি শেষ হয় না। স্ত্রীদের সঙ্গে আচরণ, সম্মান ও অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও বৈষম্য থেকে বিরত থাকা জরুরি।
তবে মানুষের অন্তরের অনুভূতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ইসলামী শিক্ষায় মূলত মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকা বিষয়গুলোতে ন্যায়বিচার ও দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সামর্থ্য ও দায়িত্ব
একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির আর্থিক ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একাধিক সংসার পরিচালনার সঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্ব যুক্ত হয়। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে স্ত্রীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা ইসলামের অনুমতির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সব মিলিয়ে, ইসলামে একাধিক বিয়ের বিধানকে যথেচ্ছাচারের সুযোগ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। বরং এটি নির্দিষ্ট শর্ত ও দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত একটি অনুমতি। কোরআনের নির্দেশনার মূল শিক্ষা হলো—ন্যায়বিচার করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে একজন স্ত্রীতেই সীমাবদ্ধ থাকা।