ডেস্ক রিপোর্ট:
আয়াতুল কুরসি নামে পরিচিত সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত কোরআনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়াত। এতে আল্লাহ তায়ালার সত্তা, ক্ষমতা, জ্ঞান ও সর্বময় কর্তৃত্বের অনন্য পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। আয়াতটিতে আল্লাহর কয়েকটি মহান গুণের কথা এসেছে, যা একজন মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ভয়, ভালোবাসা ও ভরসা আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করে।
আয়াতুল কুরসিতে বর্ণিত আল্লাহর ৮টি মহান গুণ হলো—
১. আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই
আয়াতটি শুরু হয়েছে তাওহিদের ঘোষণা দিয়ে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। ইবাদত, আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ভালোবাসার অধিকারী একমাত্র আল্লাহ। তাই আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা ইসলামের তাওহিদের বিশ্বাসের পরিপন্থী।
২. তিনি চিরঞ্জীব
আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহকে ‘আল-হাইয়্যু’ বলা হয়েছে, যার অর্থ চিরঞ্জীব। সৃষ্টিজগতের সব প্রাণী জন্ম নেয় ও মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু আল্লাহ চিরস্থায়ী। সব সৃষ্টির অস্তিত্ব তার ওপর নির্ভরশীল।
৩. তিনি সবকিছুর ধারক ও পরিচালনাকারী
আল্লাহকে ‘আল-কাইয়্যুম’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি নিজে কারও মুখাপেক্ষী নন; বরং সমগ্র সৃষ্টিজগত তার ওপর নির্ভরশীল। আকাশ, পৃথিবী এবং এর মধ্যকার সবকিছুর পরিচালনা ও সংরক্ষণ তারই কর্তৃত্বে।
৪. তাকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না
আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। মানুষের মতো তার বিশ্রাম বা ঘুমের প্রয়োজন নেই। সৃষ্টিজগতের প্রতিটি বিষয় তার জ্ঞান ও তত্ত্বাবধানের মধ্যে রয়েছে। এর মাধ্যমে তার পরিপূর্ণ ক্ষমতা ও অবিচ্ছিন্ন তত্ত্বাবধানের বিষয়টি প্রকাশ পায়।
৫. আকাশ-জমিনের সবকিছু তার মালিকানাধীন
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবই আল্লাহর। মানুষ কোনো সম্পদের মালিক হলেও প্রকৃত মালিকানা আল্লাহরই। তিনি মানুষকে যে সম্পদ দিয়েছেন, তা তার পক্ষ থেকে দেওয়া আমানত হিসেবে বিবেচিত।
৬. তার অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারে না
আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তার কাছে কেউ সুপারিশ করতে পারে না। এর মাধ্যমে তার সর্বময় কর্তৃত্ব প্রকাশ পায়। কিয়ামতের দিনও কোনো সুপারিশ তার অনুমতি ছাড়া কার্যকর হবে না।
৭. তার জ্ঞান সর্বব্যাপী
আয়াতুল কুরসিতে বলা হয়েছে, মানুষের সামনে ও পেছনের সবকিছু আল্লাহ জানেন। অর্থাৎ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—কোনো কিছুই তার জ্ঞানের বাইরে নয়। মানুষের প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়ও তার কাছে অজানা নয়।
৮. তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব সীমাহীন
আয়াতের শেষাংশে আকাশ ও পৃথিবীর সংরক্ষণ আল্লাহর জন্য কোনো ক্লান্তির বিষয় নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান। সৃষ্টিজগতের বিশালতা তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে কোনোভাবেই সীমাবদ্ধ করতে পারে না।
আয়াতুল কুরসির এসব শিক্ষা একজন মুমিনকে আল্লাহর মহত্ত্ব ও সর্বময় ক্ষমতা উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। আয়াতটির অর্থ ও মর্ম অনুধাবন করে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, ভরসা ও আনুগত্য আরও দৃঢ় করা একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।