আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:46
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 2 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

আজানের ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে শয়তানের পলায়ন

Front line Bangladesh 25 Aug, 2026 • 02:02 PM
ছবির ক্যাপশন: আজানের ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে শয়তানের পলায়ন

আল্লাহু আকবার’—অর্থাৎ ‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ’। ইসলামে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় এই তাকবির মুমিনের ঈমানকে দৃঢ় করে এবং মহান আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর বলো, সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই এবং অপমান থেকে বাঁচতে তাঁর কোনো অভিভাবকের দরকার নেই। সুতরাং তুমি পূর্ণরূপে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করো।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ১১১)

‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির অন্যতম তাৎপর্য হলো—এটি মুমিনকে আল্লাহর মহত্ত্ব ও ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে মানুষের অন্তরে তাকওয়া, সাহস, প্রশান্তি এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়।

আজানের সঙ্গে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আজান শুরু হলে শয়তান সেখান থেকে পালিয়ে যায়, যাতে সে আজানের শব্দ শুনতে না পায়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নামাজের জন্য আজান দেওয়া হলে শয়তান পেছন ফিরে পালাতে থাকে, যাতে সে আজানের শব্দ না শোনে। আজান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে। এরপর নামাজের ইকামত দেওয়া হলে আবার দূরে সরে যায়। ইকামত শেষ হলে ফিরে এসে মানুষের মনে নানা ধরনের কুমন্ত্রণা দিতে থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৮)

হাদিসটি থেকে বোঝা যায়, আজানের মাধ্যমে যখন মানুষকে নামাজ ও ইবাদতের দিকে আহ্বান জানানো হয়, তখন শয়তান সেই পরিবেশ থেকে দূরে সরে যায়। কারণ তার অন্যতম কাজ হলো মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত থেকে দূরে রাখা।

ইকামতের সময়ও আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা হয়। ফলে শয়তান তখনও দূরে সরে যায়। তবে ইকামত শেষ হওয়ার পর সে আবার মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেওয়ার চেষ্টা করে। নামাজের মধ্যেও নানা বিষয় মনে করিয়ে দিয়ে মুসল্লির মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করে।

ইসলামি শিক্ষায় আল্লাহর জিকির ও তাঁর মহিমা ঘোষণা মানুষের অন্তরকে আল্লাহমুখী করার অন্যতম মাধ্যম। ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণের মাধ্যমে একজন মুমিন স্মরণ করেন—মানুষের ভয়, দুশ্চিন্তা ও সমস্যার চেয়েও আল্লাহ মহান ও শক্তিশালী।

তাই তাকবির শুধু দুটি শব্দের একটি বাক্য নয়; এটি মুমিনের জন্য ঈমানি শক্তি ও আল্লাহর ওপর ভরসার প্রকাশ। নিয়মিত আল্লাহর জিকির, আজানের প্রতি মনোযোগ এবং নামাজের মাধ্যমে মানুষ শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে পারে।

‘আল্লাহু আকবার’ মুমিনের হৃদয়ে এই বিশ্বাস জাগিয়ে তোলে—সবচেয়ে বড় ও সর্বশক্তিমান সত্তা একমাত্র আল্লাহ। তাঁর স্মরণে ভয় ও হতাশা দূর হয়, অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং মানুষ ইবাদতের প্রতি আরও মনোযোগী হয়।

ট্যাগ
আজানের ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে শয়তানের পলায়ন
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 25 Aug, 2026 • 02:02 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)