ফিফার সভাপতি পদ থেকে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দিলে তা ‘মারাত্মক ভুল’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা বিবেচনা করলেও ফিফা ‘মারাত্মক ভুল’ করবে।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যদি কোনো কারণে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা বিবেচনাও করে ফিফা, তবে তারা একটি মারাত্মক ভুল করতে যাচ্ছে।’
ইনফান্তিনোর প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তার নেতৃত্বে আগের আসরের তুলনায় চার গুণ বেশি সফল বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়েছে। ইনফান্তিনো না থাকলে বিশ্বকাপ এতটা লাভজনক হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এমন সমর্থনের মধ্যেই চাপের মুখে রয়েছেন ফিফা সভাপতি। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও চলমান সংকট নিয়ে উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ নিজেদের উদ্যোগে টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।
এই তিন মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’র অভিযোগ তুলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে তাকে সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে চলমান সংকটের প্রভাব থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার পথ খুঁজছে সংস্থাগুলো।
বিরোধের মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি প্রস্তাবিত কোম্পানির শেয়ার বেসরকারি খাতে বিক্রির পরিকল্পনা। এই উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার সঙ্গে ইনফান্তিনোর বিরোধ শুরু হয়। পরে এ প্রস্তাবের জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছিলেন।
এরই মধ্যে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের প্রধানদের স্বাক্ষরিত একটি খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনোর ওই পরিকল্পনার স্বাধীন পর্যালোচনার জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও চিঠিতে সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ফুটবলের নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা বা দাবি করার বিষয়ও নয়। বরং ফুটবল পরিবার যে ব্যক্তির ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করে, তার মূল কর্তব্য হলো তাদের সেবা করা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রতারণার মাধ্যমে যখন বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয় এবং কোনো ব্যক্তি তাকে নির্বাচিত করা প্রতিনিধিদের ওপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন, তখন মূলত অর্পিত দায়িত্বের প্রতি অবহেলা করা হয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান