ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | ক্রীড়া প্রতিবেদক
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শহীদ আবু সাঈদের নামে করা স্ট্যান্ডের ব্যানার সরিয়ে ফেলার গুঞ্জনকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড—বিসিবি।
বুধবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর সূত্রপাত সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে।
ওই পোস্টে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবি আবু সাঈদের নামে করা গ্যালারির ব্যানার সরিয়ে দিয়েছে।
পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও অন্যরা পোস্ট করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে এর মধ্যেই আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের ব্যানার আগের জায়গায় থাকার একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যানারটি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরিয়ে নতুন ব্যানার লাগানো হয়েছিল—এমন দাবিও ওঠে। তবে বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর এ দাবি নাকচ করে বলেন, ব্যানার সরানো হয়নি।
তিনি জানান, স্ট্যান্ডটি আরও সংস্কারের কাজ চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে ছড়িয়েছে, সেটিকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিসিবির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পর বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিসিবি।
বিবৃতিতে বলা হয়, মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের নামে করা ‘শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড’ বাতিল বা পরিবর্তনের বিষয়ে বোর্ড কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বিসিবি আরও জানায়, শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম কিংবা দেশের অন্য কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুতে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড’ বা অন্য কোনো স্ট্যান্ডের নাম পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বোর্ডের দাবি, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ম্যাচে স্ট্যান্ডগুলোর নাম স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে বর্তমান বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিনটি আন্তর্জাতিক সিরিজেও ‘শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড’সহ সব স্ট্যান্ডের নাম দর্শক ও টেলিভিশন সম্প্রচারে দৃশ্যমান ছিল। ম্যাচের টিকিট ও প্রচারণামূলক উপকরণেও এসব নাম উল্লেখ করা হয়।
বিসিবি বলছে, স্টেডিয়ামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে স্ট্যান্ডের সাইনবোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে এ ধরনের কাজ ম্যাচহীন দিনেই করা হয়।
‘ভুল তথ্য ছড়ানোর পরিকল্পিত চেষ্টা’
বিসিবি বিবৃতিতে আরও বলেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের ত্যাগ ও অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি স্ট্যান্ডের নাম তার নামে করা হয়েছিল। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি বা অনুমানের কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেছে বোর্ড।
একই সঙ্গে বিসিবির ভাষ্য, বর্তমান বোর্ড ও বিসিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও মিথ্যা বিবৃতি ছড়ানোর একটি পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে।
এ ধরনের অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করার অধিকার বোর্ড সংরক্ষণ করে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যান্ডের নাম পরিবর্তন বা ব্যানার সরিয়ে ফেলার যে দাবি ছড়িয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।