আজকের তারিখঃ 29 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 5:25
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

নুসরাত হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

Front line Bangladesh 08 Sep, 2026 • 07:00 PM
ছবির ক্যাপশন: নুসরাত হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়ার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১১২ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২৪ আগস্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চারজন হলেন নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।

অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ১৬ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মধ্যে হাইকোর্ট দুইজনের সাজা বহাল রেখেছেন, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেছেন এবং ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন। খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে নিম্ন আদালতের বিচার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি হত্যাকাণ্ডে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে আদালত ‘মাইন্ডলেস সেন্টেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আসামিদের ব্যক্তিগত ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট বিচারককে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা ও সাজা নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। পরে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, অধ্যক্ষের অনুসারীরা তাকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এর দুই দিন পর ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২৮ মে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় এবং ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি হয়। হাইকোর্ট ২৪ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন এবং মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

ট্যাগ
নুসরাত হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 08 Sep, 2026 • 07:00 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)