আজকের তারিখঃ 28 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 2:21
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

সাইবার আইন নিপীড়নমূলক হবে না, সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Front line Bangladesh 28 Sep, 2026 • 03:49 PM
ছবির ক্যাপশন: সাইবার আইন নিপীড়নমূলক হবে না, সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ কোনোভাবেই যেন নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয় এবং সাংবাদিক বা গণমাধ্যম এর শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের মতামত ও বিস্তৃত আলোচনার ভিত্তিতেই আইনটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের সঙ্গে কনসালটেশন সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়া এর আগে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী সাইবার স্পেসে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও সাইবার স্পেস ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও মতামত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে না। কোনো সাংবাদিক যেন আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

সভায় ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহবুব আনাম গণমাধ্যম ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরও সময় নিয়ে নিবিড় আলোচনার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের সুরক্ষায় আইনে প্রয়োজনীয় ‘সেভিং ক্লজ’ রাখার বিষয়েও তিনি মত দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হিসেবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার প্রস্তাবটিকে উপযুক্ত ও যুক্তিসংগত মনে করছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাওয়ার পর বিষয়টি খসড়া বিলে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ছাড়া মামলা বা আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকাল ধরে যেন কেউ আইনি প্রক্রিয়ায় ঝুলে না থাকেন, সে জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিধান রাখার কথাও জানানো হয়েছে।

আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও)-কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয় করবে। সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন এবং আইটি মন্ত্রণালয়ের সাইবার বিশেষজ্ঞদের প্যানেলও এতে যুক্ত থাকবে।

আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। এরপর সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে আবারও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সাধারণ মানুষ ও অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মতামত গ্রহণের পর নিয়ম অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় খসড়াটি পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে তা জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হবে। সংসদে উত্থাপনের পরও তাড়াহুড়ো করে বিলটি পাস করা হবে না বলে তিনি জানান।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনের লক্ষ্য হলো সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন এবং দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আইনটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কথা জানিয়েছে সরকার।

ট্যাগ
সাইবার আইন নিপীড়নমূলক হবে না সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 28 Sep, 2026 • 03:49 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)