রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই কোনো বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের প্রথম সাক্ষাৎ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। এ সময় সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
সৌদি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পাশে থেকে সৌদি আরবের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সফর আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে মিনায় গোসলখানা ও শৌচাগার সুবিধা উন্নয়নের আহ্বান জানান তিনি। জবাবে সৌদি রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সৌদি আরবে ৩৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন উল্লেখ করে সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনশক্তি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি সৌদি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। এই সম্পর্ককে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সৌদি বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে তাদের ভূমিকার জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, সৌদি রাষ্ট্রদূত জ্বালানি, সহায়তা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।