আজকের তারিখঃ 28 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:43
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে বিনিয়োগ বাড়াতে ০.৫০ ট্যারিফ চায় বিএসআরইএ

Front line Bangladesh 23 Aug, 2026 • 08:41 PM
ছবির ক্যাপশন: মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে বিনিয়োগ বাড়াতে ০.৫০ ট্যারিফ চায় বিএসআরইএ

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে (এমপিপি) বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ কমিয়ে ০.৫০ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)।

রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আয়োজিত মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের গাইডলাইন ও ট্যারিফ বিষয়ে গণশুনানিতে লিখিত প্রস্তাবে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। শুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ কমিশনের সদস্য, সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তা ও তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএসআরইএ বলেছে, দেশে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের উন্নয়ন এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ ০.৫০ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে।

সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ

গণশুনানিতে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক বেসরকারি মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিক্রির ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, সৌরভিত্তিক বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা যাবে।

কারিগরি মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিট স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৩২৬ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রক কার্যকরী মূলধন বাবদ ৪৪ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার টাকা যোগ করে মোট মূল্যভিত্তি ধরা হয়েছে ৩৭০ কোটি ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

এই মূল্যভিত্তির ওপর প্রস্তাবিত মুনাফার হার ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। জনবল, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশাসনিক ও সাধারণ ব্যয় বাবদ ১১ কোটি ২১ লাখ এবং অবচয় বাবদ ১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

সব মিলিয়ে মোট রাজস্ব প্রয়োজন ৫৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য আয় হিসেবে ৯৮ লাখ টাকা বাদ দেওয়ার পর নিট রাজস্ব প্রয়োজন দাঁড়ায় ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

কমিটির হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিট উৎপাদন হবে ৯ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট। এই উৎপাদন ও নিট রাজস্ব প্রয়োজনের ভিত্তিতে ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা ট্যারিফ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

১০-২০ শতাংশ ব্যাটারি সংরক্ষণের প্রস্তাব

সৌরবিদ্যুৎ শুধু দিনের বেলায় নয়, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী দিন বা রাতেও সরবরাহ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।

এ জন্য সৌরভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার ১০ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিটির মতে, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকলে দিনের বেলায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে রাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে।

ডিমড জেনারেশনের ক্ষতিপূরণ চায় বিএসআরইএ

ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিআইএসকম) ত্রুটির কারণে ফিডিং ও ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশন অকার্যকর হলে এমপিপি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছে বিএসআরইএ।

সংগঠনটি বলেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও ডিআইএসকমের ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারলে ‘ডিমড জেনারেশন’-এর বিপরীতে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

এ ছাড়া কোনো মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ বা চুক্তি বাতিলের আগে কমপক্ষে ২০ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

গ্রাহকদের কাছ থেকে ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ পোস্ট-পেমেন্ট ভিত্তিতে ত্রৈমাসিক হারে আদায়ের প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।

উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের দাবি

মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত অব্যবহৃত বা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ সরকারি খাতের ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বিএসআরইএ।

এ বিদ্যুতের মূল্য বিইআরসি নির্ধারিত গড় হারে পরিশোধের ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিনিয়োগের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রকল্পের ডেভেলপার ও বিনিয়োগকারীর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সার্ভিস লিগ্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট করার প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।

এ ছাড়া সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময়ের ক্ষতি বিপিডিবি ও সরকারের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া এবং বিভিন্ন ভোল্টেজ পর্যায়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য নির্ধারিত স্থির ভাড়া রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএসআরইএ।

সংগঠনটি গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে।

ট্যাগ
মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে বিনিয়োগ বাড়াতে ০.৫০ ট্যারিফ চায় বিএসআরইএ
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 23 Aug, 2026 • 08:41 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)