আজকের তারিখঃ 29 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 12:04
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

বিরোধীদের আপত্তির মধ্যেই র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইন পাস

Front line Bangladesh 10 Sep, 2026 • 07:07 PM
ছবির ক্যাপশন: বিরোধীদের আপত্তির মধ্যেই র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইন পাস

ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও সমালোচনার মধ্যেই বহুল আলোচিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলটি কণ্ঠভোটে দিলে তা পাস হয়।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা হলে বিলটির বিভিন্ন ধারার বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাতটি নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানানো হয়।

পরে সংসদীয় কমিটির সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী সদস্যরা বিলটির বিরোধিতা করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে শুধু নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন করলে জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তাই কোনো অবস্থাতেই আইনটি পাস করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলের আপত্তিতে বলা হয়, র‌্যাব বিলুপ্তির পর পর্যাপ্ত জাতীয় পরামর্শ এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এসআরবি শেষ পর্যন্ত র‌্যাবেরই নতুন রূপ ধারণ করতে পারে। এজন্য রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানানো হয়।

বিশেষ করে র‌্যাবের পুরোনো নথি, গুম-সংক্রান্ত আলামত ও রেকর্ডপত্র সরাসরি স্থানান্তরের আগে আলাদা তালিকা করে সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়, যাতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকে।

এসআরবির কাঠামো ও দায়িত্ব

পাস হওয়া আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে। এর সদর দপ্তর হবে ঢাকায়। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিটটি গঠন করা হবে।

এসআরবির প্রধান হিসেবে থাকবেন একজন মহাপরিচালক (ডিজি)। তিনি পুলিশ বাহিনীর অন্তত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা হবেন। বাহিনীর প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা তার ওপর ন্যস্ত থাকবে।

আইনের ১০ ও ১২ ধারায় এসআরবির দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, গুম, ভূমিদস্যুতা, মানবপাচার ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাহিনীটি কাজ করবে।

অপরাধী গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও আলামত জব্দের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির নিজস্ব হেফাজতে রাখা যাবে না; আইন অনুযায়ী তা অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় হস্তান্তর করতে হবে।

এসআরবির সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আদালত, সরকার বা পুলিশ প্রধানের নির্দেশনায় নির্ধারিত অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।

সদস্যদের জন্য শাস্তির বিধান

বিলে এসআরবি সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলা, মদ্যপ অবস্থায় দায়িত্ব পালন, বেআইনি দখলদারি, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ওপর নির্যাতন বা বেআইনি বলপ্রয়োগ, প্ররোচনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর, বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত, তিরস্কার ও জরিমানার মতো শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যক্তিগত অভিযোগ বা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিরসনে একটি ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত সামাজিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতিতে অপরাধের বৈচিত্র্যময় ধরন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী গঠনের প্রয়োজন থেকেই এসআরবি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব-সংক্রান্ত আগের সব বিধান বাতিল বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে বিলুপ্ত র‌্যাবের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল ও নথিপত্র এসআরবির কাছে ন্যস্ত হবে।

ট্যাগ
বিরোধীদের আপত্তির মধ্যেই র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইন পাস
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 10 Sep, 2026 • 07:07 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)