আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 22:38
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Front line Bangladesh 10 Oct, 2026 • 02:05 PM
ছবির ক্যাপশন: বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মানববর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ প্রযুক্তির গবেষণা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

এ সময় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ও প্রকল্পের গবেষক ড. মো. খালেকুজ্জামান মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি ও গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরেন।

গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সরেজমিনে দেখার পাশাপাশি প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা সম্পর্কেও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

গবেষণায় বায়োক্রুড উৎপাদনে অগ্রগতি

প্রায় ১০ বছর ধরে চলা এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন কুয়েটের গবেষকরা।

গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষাগারে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে।

প্রতিদিন ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের পরিকল্পনা

গবেষণার পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

তেলের আমদানি কমানোর সম্ভাবনা

গবেষকদের দাবি, প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে হলে বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তায় প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় জ্বালানি শিল্পের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ
বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 10 Oct, 2026 • 02:05 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)