দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে ১০ বছর মেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটিতে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি ব্যবস্থাকে ফোকলা করে দিয়ে গেছে। এখন দেশের মানুষ সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটিতে ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এসব হাসপাতালে স্থানীয় মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা পাবেন।
চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুতের কষ্টে বাংলাদেশের মানুষ যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তার জন্য তিনি দুঃখিত। তবে জনগণের সরকার হিসেবে দ্রুততম সময়ে এই সংকট থেকে মানুষকে মুক্ত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
আগামী সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনেই জনগণের সামনে আগামী ১০ বছরে কীভাবে দেশের জ্বালানি সমস্যার সমাধান করা হবে, সেই পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সরকার তৃতীয় এলএনজি জাহাজের অনুমতি বাতিল করেছিল, যা এখন নতুন করে চালুর উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।
চীন এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তৃতীয় এলএনজি জাহাজ দেশে এলে গ্যাস সংকট অনেকাংশে কমে আসবে। তবে জাহাজ প্রস্তুত করতে সময় প্রয়োজন হওয়ায় সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।