চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
কারাগারে পাঠানো তিন সাংবাদিক হলেন—জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যরা।
শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গত ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সোমবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চাওয়া হয়।
শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে কয়েকজন সাংবাদিক উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে মন্তব্য করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ওই বক্তব্য ও উসকানির ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।