আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 21:19
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

‘মতপার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়’: শি জিনপিংকে মোদি

Front line Bangladesh 13 Sep, 2026 • 03:24 PM
ছবির ক্যাপশন: ‘মতপার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়’: শি জিনপিংকে মোদি

ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত চুক্তি ও সমঝোতাগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে নয়াদিল্লিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব কথা বলেন মোদি। সাত বছর পর চীনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফরে সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন মোদি।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্ত-সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো উভয় পক্ষকে মেনে চলতে হবে বলে জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ও সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সীমান্ত বিরোধের ন্যায্য, যৌক্তিক ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে দুই নেতা নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মোদি বলেন, “মতপার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়।” দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালনায় পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা ও স্বার্থ—এই তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২৫ সালের আগস্টে চীনের তিয়ানজিনে দুই নেতার সর্বশেষ বৈঠকের পর ভারত-চীন সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।

বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, দুই দেশের জাতীয় পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও ভারত ও চীন একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে সহযোগিতা এবং যৌথ উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারে।

তিনি জানান, মোদির সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে তার ২১টি বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকে অর্জিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য দুই দেশের সম্পর্ককে ধারাবাহিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের দুই সর্বাধিক জনবহুল দেশ ও বৈশ্বিক দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত ও চীনের বড় দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শি। মানবতার ভবিষ্যৎ ও দুই দেশের জনগণের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে ভারত-চীনকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান চীনা প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দুই নেতা সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং পারস্পরিক সম্মান, স্বার্থ ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ২০০৩ সালে সীমান্ত বিরোধের সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়।

সম্প্রতি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে সীমান্ত নির্ধারণ, আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর শান্তি বজায় রাখার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগ
‘মতপার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়’: শি জিনপিংকে মোদি
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 13 Sep, 2026 • 03:24 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)