ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে চীন। এতে দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ জনে।
নেপালে ৯৮৭টি মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি অনেক মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে দেশটিতে নিখোঁজের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯১৬ জনে। অন্যদিকে তিব্বতে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
দুই দেশ মিলিয়ে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৪৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সপ্তম দিনে আজও উদ্ধার অভিযান চলছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তারা বিশ্বের ৩০টি দেশ থেকে হিমালয়ের দেশটিতে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। অপরদিকে তিব্বতে ২৩ দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। বন্যার পানির স্রোত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, ভেসে যাওয়া মরদেহ কয়েকশ মাইল দূর পর্যন্ত চলে যায়।
পর্যাপ্ত মরদেহ সংরক্ষণাগার বা ফ্রিজার না থাকায় মরদেহ সংরক্ষণে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল। এ কারণে আপাতত মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে গণকবরে দাফন করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে পরিচয় শনাক্ত হলে মরদেহ কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযানেও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: এএফপি