আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 22:36
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

সমুদ্রতীরে পুরোনো বিমানবন্দরে ইউরোপের মেগা পার্ক

Front line Bangladesh 22 Aug, 2026 • 12:32 PM
ছবির ক্যাপশন: সমুদ্রতীরে পুরোনো বিমানবন্দরে ইউরোপের মেগা পার্ক
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের পুরোনো বিমানবন্দরের জায়গায় গড়ে উঠছে ইউরোপের অন্যতম বড় উপকূলীয় নগর উদ্যান ‘এলিনিকন পার্ক’। প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে নির্মাণাধীন এই পার্কে ৩০ হাজারের বেশি গাছ ও প্রায় ৩০ লাখ ঝোপঝাড় লাগানো হবে। পার্কটির প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকাজুড়ে থাকবে সবুজায়ন।

দক্ষিণ এথেন্সের এলিনিকো এলাকায় নির্মাণাধীন পার্কটি ২০২৭ সালের শুরুতে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এর বিভিন্ন অবকাঠামো ও সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য শুধু বিনোদনকেন্দ্র তৈরি করা নয়; জলবায়ু পরিবর্তন, নগরের অতিরিক্ত তাপ ও বন্যার মতো পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে পার্কটি।

থাকবে আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা

এলিনিকন পার্কে থাকবে আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। প্রতিদিন ৭ হাজার ঘনমিটার পর্যন্ত পরিশোধিত পানি উৎপাদনে সক্ষম বর্জ্যপানি শোধনাগার এবং ১০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে।

স্মার্ট সেচব্যবস্থার মাধ্যমে গাছপালার প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ করা হবে। এতে পানির ব্যবহার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বৃষ্টির পানিও পার্কের ভেতরেই ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে। সবুজ ও নীল অবকাঠামোর মাধ্যমে বৃষ্টির পানি এলাকাটির মধ্যেই ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে ট্রাকোনেস জলধারার মতো প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হবে, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে।

কমাবে নগরের তাপ

পার্কটির নকশায় নগরের অতিরিক্ত তাপ কমানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাপমাত্রা, বাতাসের প্রবাহ ও ছায়ার ধরন বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে ‘কুল রুট’ বা শীতল পথ। এসব এলাকায় আশপাশের কংক্রিট ও অ্যাসফল্টে ঢাকা এলাকার তুলনায় তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম থাকতে পারে।

বিশ্রামের জায়গাগুলোতে ৬০ শতাংশের বেশি ছায়া রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। গাছপালার বাষ্পীভবন, পানির ধারা, কুয়াশা তৈরির ব্যবস্থা এবং কম পানি ব্যবহারকারী জলাধার পার্কের শীতল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

থাকবে ৫২০ প্রজাতির উদ্ভিদ

পার্কে ৫২০টির বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ হবে স্থানীয় গ্রিক প্রজাতি বা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে উপযোগী উদ্ভিদ।

মাটি, বাতাসের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সূর্যের বিকিরণ ও ছায়ার মাত্রা পরিমাপ করতে বিভিন্ন সেন্সর ব্যবহার করা হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সেচ ও সবুজ এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালিত হবে।

নির্মাণকাজেও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। গ্রিসের স্থানীয় কাবালা মার্বেল, সাদা ডিওনিসোস-পেনটেলি মার্বেল, কারিস্টোস স্লেট ও মান্দ্রাস বেলেপাথর ব্যবহার করা হবে। পুরোনো বিমানবন্দর ভবনের কংক্রিট ও অন্যান্য উপকরণও পুনর্ব্যবহার করা হবে।

প্রায় ২০ লাখ বর্গমিটার বা ২০০ হেক্টর আয়তনের এলিনিকন পার্ককে ইউরোপের সবচেয়ে বড় উপকূলীয় নগর উদ্যান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আয়তনে এটি লন্ডনের হাইড পার্কের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বড় এবং বার্লিনের টিয়ারগার্টেনের কাছাকাছি। তবে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের তুলনায় এটি ছোট। সেন্ট্রাল পার্কের আয়তন প্রায় ৩৪১ হেক্টর।

এলিনিকন প্রকল্পের অন্যতম বিশেষত্ব হলো, এটি সরাসরি প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতীরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে পুরোনো বিমানবন্দর এলাকা নতুনভাবে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা প্রকল্পে রূপ নিচ্ছে।

সূত্র: ইউরোনিউজ
ট্যাগ
সমুদ্রতীরে পুরোনো বিমানবন্দরে ইউরোপের মেগা পার্ক
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 22 Aug, 2026 • 12:32 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)