আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 21:22
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

Front line Bangladesh 15 Sep, 2026 • 11:09 AM
ছবির ক্যাপশন: মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা এলো।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিষয়টি জানান মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক।

মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় পরিবর্তিত হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে মার্কিন স্পেস ফোর্সের কাছে কক্ষপথে থাকা কিছু ‘স্পেস কন্ট্রোল’ অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

তবে এসব অস্ত্রের ধরন বা সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি মেইঙ্ক। তিনি বলেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ সক্ষমতা বা ‘ডিটারেন্স’-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্নোত্তর পর্বেও মহাকাশে থাকা অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। মেইঙ্ক বলেন, তার বক্তব্যে ব্যবহৃত শব্দগুলো খুব ভেবেচিন্তে নির্বাচন করা হয়েছে। তার মতে, শুধু আকাশে নয়, মহাকাশেও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

স্যাটেলাইট নিষ্ক্রিয় করার সক্ষমতা?

‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর বরাত দিয়ে আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট নিষ্ক্রিয় করার সক্ষমতাও থাকতে পারে।

বিশেষ করে কোনো স্যাটেলাইট মার্কিন সামরিক বাহিনী বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো স্যাটেলাইটকে লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হলে সেটিকে ধ্বংস বা অকার্যকর করার সক্ষমতা এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েনের ওপর আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ থাকলেও অন্যান্য ধরনের অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়ে বর্তমানে একই ধরনের সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞা নেই।

‘নতুন যুদ্ধক্ষেত্র’ মহাকাশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৯ সালে তার প্রথম মেয়াদে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে বিশ্বের ‘নতুনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

এরপর ২০২৫ সালে ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি বহুমাত্রিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গোল্ডেন ডোমের পরিকল্পনার সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ‘স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভ’ বা এসডিআইয়ের মিল রয়েছে। ১৯৮৩ সালে শীতল যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে চালু হওয়া ওই কর্মসূচি ‘স্টার ওয়ার্স’ নামে পরিচিত ছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আগেই কর্মসূচিটি সীমিত হয়ে পরে পরিত্যক্ত হয়।

রাশিয়া-চীনের উদ্বেগ

মহাকাশের সামরিকীকরণ নিয়ে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। গত মার্চে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মহাকাশের ‘সামরিকীকরণের’ সমালোচনা করেন। তিনি ‘গোল্ডেন ডোম’কে কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া স্যাটেলাইটবিধ্বংসী বা অ্যান্টি-স্যাটেলাইট অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ২০২১ সালের নভেম্বরে রুশ সামরিক বাহিনী সাবেক সোভিয়েত আমলের একটি অকেজো গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ধ্বংস করে। সে সময় রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি।

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের মার্কিন স্বীকৃতি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে মহাকাশকেন্দ্রিক সামরিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

সূত্র: আরটি

ট্যাগ
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 15 Sep, 2026 • 11:09 AM
বিজ্ঞাপন (Compact)