আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 21:21
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

গাজায় যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব, অপুষ্টিতে ভুগছে চিড়িয়াখানার প্রাণীরা

Front line Bangladesh 18 Aug, 2026 • 04:53 PM
ছবির ক্যাপশন: গাজায় যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব, অপুষ্টিতে ভুগছে চিড়িয়াখানার প্রাণীরা

গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের কাছে একটি চিড়িয়াখানায় যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও টিকার সংকটে সেখানকার অনেক প্রাণী অপুষ্টি ও দুর্বলতায় ভুগছে। পশু চিকিৎসকদের আশঙ্কা, বর্তমানে প্রাণীদের যে খাবার দেওয়া হচ্ছে, তা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিড়িয়াখানায় আসা শিশুরা খাঁচার ভেতর একটি সিংহকে প্রায় নিস্তেজ অবস্থায় দেখতে পায়। শিম্পাঞ্জিদেরও দেখা যায় দুর্বল ও নিষ্প্রাণ অবস্থায়। তবে নানা সংকটের মধ্যেও প্রাণীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিড়িয়াখানার মালিক মাহমুদ গোমা।

এর আগে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে চিড়িয়াখানা পরিচালনা করতেন গোমা। ২০২৪ সালে ইসরায়েলি সেনারা ওই এলাকায় হামলা ও দখল শুরু করলে তাকে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে হয়। যুদ্ধের মধ্যেই বেঁচে থাকা প্রাণীগুলোকে এক স্থান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে মধ্য গাজার নুসেইরাতে জায়গা পেয়ে আবারও চিড়িয়াখানা চালু করেন।

গোমা বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর মানুষ যখন নিজেদের জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত ছিল, তখন তিনি নিজের চেয়েও বেশি প্রাণীগুলোকে বাঁচানোর চিন্তা করেছেন।

তবে এখন প্রাণীদের খাবার জোগাড় করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজার মানুষের জন্যই যেখানে পর্যাপ্ত খাবার নেই, সেখানে বন্যপ্রাণীদের প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করা আরও কঠিন।

পশু চিকিৎসক নিদাল ফাদেল জানান, বর্তমানে প্রাণীদের হিমায়িত মাংস খাওয়ানো হচ্ছে। তার মতে, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং প্রাণীদের জন্য সঠিক পুষ্টি পরিকল্পনা নয়। কারণ প্রকৃতিতে এসব প্রাণী সাধারণত তাজা শিকার খেয়ে থাকে।

যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবও পড়েছে চিড়িয়াখানার প্রাণীদের ওপর। রাফাহ থেকে পালানোর সময় তিনটি সিংহ, কয়েকটি কুমির ও আফ্রিকান উটপাখি রেখে যেতে বাধ্য হন গোমা। কয়েক মাস পর সেখানে ফিরে তিনি শুধু কুমির ও উটপাখিগুলোর হাড় দেখতে পান। খাঁচায় থাকা তিনটি সিংহও নিখোঁজ হয়ে যায়।

শুধু খাদ্যসংকট নয়, গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দেও প্রাণীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে তীব্র মানসিক চাপ। পশু চিকিৎসক আমির খলিল বলেন, সিংহ এমন শব্দ ও পরিবেশগত পরিবর্তনও অনুভব করতে পারে, যা মানুষ অনেক সময় বুঝতে পারে না। নিয়মিত বোমাবর্ষণ ও সংঘাত তাদের মধ্যে ভয় ও চরম চাপ তৈরি করে।

নুসেইরাতের চিড়িয়াখানায় থাকা সিংহটিকে দর্শনার্থীদের দিকেও প্রায় তাকাতে দেখা যায়নি। তবে কিছু প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছে শিশুরা। কেউ তোতাকে কাঁধে বসাচ্ছে, কেউ ছোট বানরকে আদর করছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শিশুদের বিনোদনের সুযোগও এখন অত্যন্ত সীমিত। চিড়িয়াখানায় আসা ৪২ বছর বয়সী কারাম আল-মাজিন বলেন, শিশুদের খেলার মতো জায়গা নেই। চারপাশে শুধু ধ্বংসস্তূপ, পাথর আর তাঁবু। ফলে শিশুরা একদিকে যেমন বিরক্ত, অন্যদিকে তেমনি কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স রয়টার্সের প্রতিবেদন

ট্যাগ
গাজা চিড়িয়াখানা গাজার প্রাণী গাজায় যুদ্ধ গাজা যুদ্ধের প্রভাব নুসেইরাত চিড়িয়াখানা গাজার চিড়িয়াখানার প্রাণী প্রাণীর অপুষ্টি প্রাণীর খাদ্য সংকট গাজায় খাদ্য সংকট সিংহ শিম্পাঞ্জি পশু চিকিৎসক মাহমুদ গোমা গাজার শিশু রাফাহ চিড়িয়াখানা ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ যুদ্ধের প্রভাব প্রাণীদের মানসিক চাপ Gaza Zoo Gaza War
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 18 Aug, 2026 • 04:53 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)