আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 22:38
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

ইরানে যমজ দুই বোনের একজনের মৃত্যুদণ্ড, অন্যজনের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

Front line Bangladesh 07 Sep, 2026 • 12:25 PM
ছবির ক্যাপশন: ইরানে যমজ দুই বোনের একজনের মৃত্যুদণ্ড, অন্যজনের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই যমজ বোনের একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যজনকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তারানেহ রহিমি এবং তার যমজ বোন রোমিনা রহিমি গত জানুয়ারিতে ইসফাহানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় দুই বোনের বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। তারা তখন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার প্রায় এক মাস পর গভীর রাতে মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে ঢুকে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিবার জানতে পারে, ওই ব্যক্তিরা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্য ছিলেন।

প্রায় চার মাস ধরে হাসপাতাল ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ করেও দুই মেয়ের সন্ধান পাননি তাদের মা মারজিয়ে নুরমোহাম্মাদি। পরে তিনি জানতে পারেন, তার দুই মেয়ে কারাগারে রয়েছেন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মে মাসে ইসফাহানের দৌলতাবাদ কারাগারে মেয়েদের দেখতে গিয়ে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান মা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তাদের চাচাতো ভাই মাসুদ নুরমোহাম্মাদি অভিযোগ করেন, দুই বোনের মাথার চুল টেনে তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হয়েছিল। এতে মাথার বিভিন্ন অংশের চুল উঠে যায় এবং মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

পরিবারের আরও অভিযোগ, কারাগারে তারানেহকে স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। স্বাক্ষর না করলে তার বোন রোমিনাকে কারারক্ষীরা তার সামনে ধর্ষণ করবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন নুরমোহাম্মাদি।

সম্প্রতি ইরানের আদালত তারানেহকে মৃত্যুদণ্ড এবং রোমিনাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে দুই বোনের সাজায় এত বড় পার্থক্যের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। সাজা ঘোষণার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে আর দেখা করতে পারেননি।

নুরমোহাম্মাদি তারানেহর মৃত্যুদণ্ডকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন। তার ধারণা, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্যরা ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চলতি বছর ইরানে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে অন্তত ২৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৬ জন নারী।

এ ছাড়া শত শত বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে অথবা এমন অভিযোগে বিচার করা হচ্ছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। ইসফাহানেই এ ধরনের অভিযোগে ৭০ জনের বেশি মানুষ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাজ্যসহ ৩০টি দেশ জানুয়ারির বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দেয়। এতে এসব মৃত্যুদণ্ডকে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তারানেহ ও রোমিনা ৮ ও ৯ জানুয়ারি ইসফাহানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর প্রায় এক মাস পর মুখে ব্যাগ পরানো কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তাদের অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

মেয়েদের সন্ধানে তাদের মা বিভিন্ন আদালত ও হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। পরে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার দুই মেয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

নুরমোহাম্মাদির ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারে মেয়েদের দেখে তাদের মা প্রথমে চিনতেই পারেননি। দুই বোনের মুখ ফুলে গিয়েছিল, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং কনুই, হাতের আঙুল ও পায়ে গুরুতর আঘাত ছিল। তাদের চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তারা একাকী কারাবাসেও ছিলেন বলে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি, দুই বোনের বিচারেও তাদের মা উপস্থিত থাকতে পারেননি। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারানেহ আদালতে জানিয়েছিলেন, তার কাছ থেকে নেওয়া স্বীকারোক্তি নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছিল।

তবে বিক্ষোভের সময় দুই বোন কোনো সহিংসতায় জড়িত ছিলেন—এমন প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পরিবারের দাবি, ওই বিক্ষোভের আগে দুই বোন কখনো কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেননি।

এদিকে মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুঠোফোনে মৃত্যুর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নুরমোহাম্মাদি। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

তিনি জানান, তার মা এখন তার সঙ্গে থাকেন। মেয়েদের কথা মনে পড়লেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ট্যাগ
ইরানে যমজ দুই বোনের একজনের মৃত্যুদণ্ড অন্যজনের ২৫ বছরের কারাদণ্ড
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 07 Sep, 2026 • 12:25 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)