আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:48
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

সকালে মালিক, বিকেলে ফকির’—পুরান ঢাকায় আগুনে নিঃস্ব

Front line Bangladesh 13 Oct, 2026 • 10:50 AM
ছবির ক্যাপশন: সকালে-মালিক,-বিকেলে-ফকির’—পুরান-ঢাকায়-আগুনে-নিঃস্ব

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারা গলির মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়তলায় থাকা গোডাউনের মালামাল পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। কেউ প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন, আবার কেউ কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালেও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের। দীর্ঘ সময় ধরে দোকান ও গোডাউন বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন আশপাশের ব্যবসায়ীরা।

গোডাউন মালিক মো. রবিন জানান, সাততলা ভবনটির পাঁচ, ছয় ও সাততলায় কসমেটিকস ও ব্যাগের গোডাউন রয়েছে। তাঁর গোডাউন ছয়তলার ডান পাশে। সেখানে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ মজুত ছিল। আগুন লাগার পর থেকে তিনি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।

রবিন বলেন, ‘এই তিনতলায় ৫০টির বেশি গোডাউন রয়েছে। প্রতিটি গোডাউনে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মালামাল আছে। সব পুড়ে গেলে আমি সর্বস্বান্ত হয়ে যাব।’

তিনি জানান, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নিচতলার একটি দোকানের কর্মচারীর মাধ্যমে আগুন লাগার খবর পান। এরপর থেকে গোডাউনের অবস্থা জানতে ভবনের ভেতরে যেতে পারেননি।

ভবনটির নিচতলায় ব্যাগের দোকান রয়েছে মো. ইমতিয়াজের। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লাগায় ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

ইমতিয়াজ বলেন, সোমবার বিকেল ৫টায় আগুন লাগার পর মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ধোঁয়া বের হচ্ছিল। তাঁর অভিযোগ, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে ছোট কাটারা গলির আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবন বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব ভবনে কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্যের অসংখ্য দোকান রয়েছে। দোকান বন্ধ থাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে না পেরে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

পাশের একটি ভবনে কসমেটিকসের দোকান রয়েছে মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের। তিনি বলেন, সোমবার বিকেল থেকে তাঁদের দোকান বন্ধ রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ব্যবসা চালুর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ভবনের দারোয়ান মো. মজিবুল্লাহ জানান, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে প্রচুর পানি ব্যবহার করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পায় সংস্থাটি। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, আগুন নেভানোর কাজে গিয়ে তীব্র ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী। সরু রাস্তা ও ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির ছয়তলায় থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে। তবে অন্যান্য গোডাউনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কাটেনি। গোডাউন খুলে ভেতরের অবস্থা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। অনেকের কাছে সেখানে থাকা মালামালই ছিল দীর্ঘদিনের ব্যবসার পুঁজি ও পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এখন সেই পুঁজি কতটা রক্ষা পেয়েছে, তা নিয়েই অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁদের।

ট্যাগ
সকালে-মালিক -বিকেলে-ফকির’—পুরান-ঢাকায়-আগুনে-নিঃস্ব
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 13 Oct, 2026 • 10:50 AM
বিজ্ঞাপন (Compact)