সকালের ঘুম কাটাতে কিংবা কাজের ফাঁকে ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই এক কাপ কফি পান করেন। কারও আবার দিনে কয়েক কাপ কফি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় কফি পানের সঙ্গে হজমশক্তি ও পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্যের বেশ কিছু ইতিবাচক সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে।
‘টাইমস নাও’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে শরীরের হজমপ্রক্রিয়ায় কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
হজমশক্তি উন্নত করতে পারে
কফি পানের ফলে পাকস্থলীতে ‘গ্যাস্ট্রিন’ নামের হরমোনের ক্ষরণ বাড়তে পারে। এই হরমোন হজমপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ‘কোলেসিস্টোকিনিন’সহ কিছু হজম-সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায় কফির প্রভাব থাকতে পারে, যা খাবার হজম ও পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে।
কফিতে থাকা বিভিন্ন যৌগ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে পরিমিত কফি পানের সঙ্গে সামগ্রিক পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্যের একটি ইতিবাচক সম্পর্ক থাকতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কফি পানের পর অন্ত্রের নড়াচড়া বা বাওয়েল মুভমেন্ট বেড়ে যায়। ফলে নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কিছুটা কম হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাদ্য গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অতিরিক্ত কফি নয়
কফির সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে অস্বস্তি, ঘুমের সমস্যা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের ক্যাফেইনে সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তাই কফিকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে না দেখে পরিমিত পরিমাণে পান করাই ভালো। ব্যক্তিভেদে ক্যাফেইনের সহনশীলতা ভিন্ন হওয়ায় নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রাখা জরুরি।