আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:49
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তির ধর্ম কেউ জানতে চায়নি: প্রধানমন্ত্রী

Front line Bangladesh 21 Oct, 2026 • 09:54 AM
ছবির ক্যাপশন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তির ধর্ম কেউ জানতে চায়নি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান—ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, সবার পরিচয় বাংলাদেশি। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজা মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে গুলিবিদ্ধ মানুষটি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রিষ্টান—তা কেউ জানতে চাননি। সেদিন লাখো মানুষ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেমেছিলেন। অনেকে শহীদ হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং দেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাই ছিল মুখ্য।

তারেক রহমান বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সবার। আমরা মুসলমান হই, আমরা হিন্দু হই, আমরা বৌদ্ধ হই, খ্রিষ্টান হই—যেই হই না কেন, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকটি মানুষ এই বাংলাদেশি।”

তিনি আরও বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। কারও পরিচয় শুধু ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই দেশের আইন আমার জন্য যেভাবে প্রযোজ্য, এই দেশের আইন আপনার জন্যও প্রযোজ্য। এই দেশের উপরে আপনার যে অধিকার আছে, এই দেশের উপরে আমারও এই অধিকার আছে। এই রাষ্ট্র আপনাকে যা দেবে, এই রাষ্ট্র আমাকেও তাই দেবে।”

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখো মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, কথা বলার অধিকার এবং ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলনেও সহযোদ্ধাদের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে মানুষ দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। সেই ত্যাগের লক্ষ্য ছিল শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনি হিন্দু হোন, আপনি মুসলমান হোন, আপনি বৌদ্ধ হোন, খ্রিষ্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।”

তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানান।

জে এম সেন হলের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

ট্যাগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তির ধর্ম কেউ জানতে চায়নি: প্রধানমন্ত্রী
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 21 Oct, 2026 • 09:54 AM
বিজ্ঞাপন (Compact)