আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 6:00
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

ছয় বছর পর পাগলা মসজিদের দানবাক্সের স্বর্ণ-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা শুরু

Front line Bangladesh 12 Oct, 2026 • 12:34 PM
ছবির ক্যাপশন: ছয় বছর পর পাগলা মসজিদের দানবাক্সের স্বর্ণ-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা শুরু

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে সংগৃহীত স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছর পর এসব মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব করা হচ্ছে। পরে স্বর্ণ ও রুপা নিলামে বিক্রি এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারে নগদায়ন করা হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

ট্রেজারিতে সংরক্ষিত নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব করা হচ্ছে। এ সময় স্বর্ণের ক্যারেট যাচাই, স্বর্ণ ও রুপার ওজন নির্ধারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশভিত্তিক আলাদা করার কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণের পর নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ইশতিয়াক ইমন, জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা এতে সহযোগিতা করছেন। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণ ও রুপার ওজন নির্ধারণ এবং পরিমাপের দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২০ সালে স্বর্ণ-রুপা বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ১৫ লাখ টাকায়

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে প্রায় তিন বছর ধরে জমা হওয়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৮ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। এসব অলঙ্কার বিক্রি করে পাওয়া যায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকা।

সেবার স্বর্ণালঙ্কারগুলো মান ও ধরন অনুযায়ী পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে বিদেশি ও দেশি স্বর্ণের অলঙ্কার, চাঁদ-তারকা এবং নাকফুল ছিল। ১৮৮ ভরি রুপার অলঙ্কারও আলাদাভাবে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে প্রায় ৭০ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

প্রাপ্ত অর্থ রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হয় এবং স্বর্ণালঙ্কার কালেক্টরেটের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়।

সর্বশেষ দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা

চলতি বছরের ২৭ জুন সর্বশেষ পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন পাওয়া যায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এরপর থেকে সংগৃহীত অর্থের পাশাপাশি মসজিদের তহবিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, পাগলা মসজিদে দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি ভক্ত ও দর্শনার্থীরা স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারও দান করেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খোলা হয় এবং সংগৃহীত অর্থ মসজিদের তহবিলে জমা রাখা হয়।

ট্যাগ
ছয় বছর পর পাগলা মসজিদের দানবাক্সের স্বর্ণ-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা শুরু
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 12 Oct, 2026 • 12:34 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)