আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:48
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের দ্রুত নির্দেশনা স্থগিত

Front line Bangladesh 18 Oct, 2026 • 04:50 PM
ছবির ক্যাপশন: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের দ্রুত নির্দেশনা স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর দ্রুত আদায়ের নির্দেশনা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। তবে বকেয়া কর পরিশোধের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া মূল আদেশ স্থগিত করা হয়নি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। মামলার আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দ্রুত কর আদায়ের নির্দেশনার ওপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের বিষয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে। তবে দ্রুত অর্থ পরিশোধের নির্দেশনাটি স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির শুনানি আগামী ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

হাইকোর্টের রায়ে কর পরিশোধের নির্দেশ

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণকে পাঁচ অর্থবছরের জন্য এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ওই রায় দেন এবং এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করেন।

পরবর্তী সময়ে ১০ অক্টোবর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এতে এনবিআরকে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য অবিলম্বে চাহিদাপত্র জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গ্রামীণ টেলিকমের নামে জমা দেওয়া উৎসে করের চালানের সুবিধা গ্রামীণ কল্যাণ নিজেদের কর পরিশোধ হিসেবে দাবি করতে পারে না। রায়ে এ ধরনের সুবিধা নেওয়াকে কর ফাঁকির একটি ধ্রুপদি নজির হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পাঁচ অর্থবছরের কর নিয়ে বিরোধ

গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে এনবিআরের কর দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধ চলছে। ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের কর দাবি চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি পৃথক দুটি রিট আবেদন করে।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রিট আবেদনগুলো খারিজ করে রায় দেন। তবে একই বছরের ২৯ আগস্ট বেঞ্চটি সেই রায় প্রত্যাহার করে নেন।

রায় প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মামলায় বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারপতির পূর্ববর্তী সময়ে সরকারপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং মামলাগুলোতে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। পরে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয় এবং নতুন বেঞ্চে শুনানির ব্যবস্থা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে নতুন বেঞ্চে পুনর্বিবেচনার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণের রিট আবেদনগুলো খারিজ করে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের বিষয়ে রায় দেওয়া হয়।

এখন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের সর্বশেষ আদেশে দ্রুত কর আদায়ের নির্দেশনা স্থগিত হলেও মূল কর পরিশোধের আদেশ বহাল রয়েছে। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ট্যাগ
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের দ্রুত নির্দেশনা স্থগিত
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 18 Oct, 2026 • 04:50 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)