আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:51
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 5 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু: দুই মালিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ম্যানেজার গ্রেপ্তার

Front line Bangladesh 18 Oct, 2026 • 01:06 PM
ছবির ক্যাপশন: উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু: দুই মালিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ম্যানেজার গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকে ‘টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় রিসোর্টের দুই মালিক তানভীর আহমদ ও নিয়াজ মোর্শেদ এবং ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে ম্যানেজার সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে দুই মালিকের অবস্থান এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

থানার অপর এক কর্মকর্তা জানান, মামলার প্রধান আসামি রিসোর্টের মালিক ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বাসিন্দা তানভীর আহমদ। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা চলছে।

ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া হস্তান্তর করা হবে না মরদেহ

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহ, নিখোঁজ ব্যক্তি ও পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি নিয়ে যেন কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে জন্য ডিএনএ পরীক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিআইডির কক্সবাজারে কর্মরত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলা সদর হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুর রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শৌচাগার থেকে উদ্ধার হয় চার মরদেহ

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়।

শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার রিসোর্টটিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে নারী ও শিশুসহ মোট ১০ জন নিহত হন। আহত হন আরও সাতজন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য নিহতদের তালিকায় যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান আহম্মেদ, নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।

তবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহগুলোর পরিচয় চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় পাঁচ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

অনুমোদন ছাড়াই চলছিল রিসোর্ট!

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, টুপটুপ রিসোর্টের কউকের অনুমোদন ছিল না। এ বিষয়ে আগে নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি জানান, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইতোমধ্যে যাচাই করা আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা নিশ্চিত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিসোর্টটিসহ দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স না থাকায় আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা এসেছে।

তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি

জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানিয়েছেন, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ছাড়া আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

হাসপাতালের মর্গে স্বজনদের আহাজারি

এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ এলাকায় নিহত ও নিখোঁজদের স্বজনদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। প্রিয়জনের মরদেহ শনাক্তের আশায় সেখানে অবস্থান করছেন অনেকে। কেউ নীরবে কাঁদছেন, কেউ অপেক্ষা করছেন ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য।

স্বজনদের কয়েকজন জানিয়েছেন, নমুনা ঢাকায় পৌঁছানোর পর দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্ন করার আশায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরেও অবস্থান করছেন।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ১০ প্রাণহানির ঘটনায় রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা, অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা।

ট্যাগ
উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু: দুই মালিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা ম্যানেজার গ্রেপ্তার
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 18 Oct, 2026 • 01:06 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)