কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ সরদারের পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত নয়জন। কয়েকজন নিখোঁজ থাকার খবরও পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে রিসোর্টটি প্রায় পুরোপুরি পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে আব্দুল আহাদ সরদারের পরিবারের নয়জন সদস্য অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে মালিহা, মিলা, সাবরিন ও শিশু ফাইজান আহমেদের নাম জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী (ডাকনাম জাইফ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির নাফিজের বড় বোন এবং শিশু ফাইজান তার ভাগ্নে।
তবে নিহত সবার পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রিসোর্টে প্রবেশ করেছিলেন ২৭ জন
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার শনিবার বেলা ১১টার দিকে জানান, প্রাথমিকভাবে রিসোর্টটিতে ২৭ জনের প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে নয়জন রিসোর্টের বাইরে ছিলেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর হতাহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, হতাহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
এদিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জনসহ ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।