প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনকে উদ্দেশ করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দুই নেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁনের সমালোচনার জবাব দেন খালিদুজ্জামান।
তিনি লেখেন, ‘১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ড মাঠে না থেকেও নির্বাচনে জিততে তোমার নেতার ঘাম ছুটে গেছে। মাঠে থাকলে কী অবস্থা হবে, চিন্তা করে দেখো।’
যেভাবে বিতর্কের সূত্রপাত
এর আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নুরুল হক নুর ও রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন খালিদুজ্জামান।
তিনি লেখেন, ‘নুর আর রাশেদের মতো রাজনৈতিক পতিতারা আজ মন্ত্রিপরিষদে! এতে জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত।’
তার এই মন্তব্যের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।
খালিদুজ্জামানকে নিয়ে রাশেদের কড়া মন্তব্য
শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে খালিদুজ্জামানের বক্তব্যের জবাব দেন রাশেদ খাঁন।
সেখানে তিনি ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী খালিদুজ্জামানের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রাশেদ দাবি করেন, বিগত ১৬ বছরে খালিদুজ্জামান রাজপথের আন্দোলনে অংশ নেননি। এমনকি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট দেননি।
অথচ তিনি অন্যদের রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রাম ও ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বলে অভিযোগ করেন রাশেদ।
ফেসবুক পেজ খোলার সময় নিয়েও প্রশ্ন
নিজের পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, খালিদুজ্জামান ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট ফেসবুক পেজ খুলেছেন। শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ।
এ সময় খালিদুজ্জামানকে উদ্দেশ করে বেশ কিছু আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
পাল্টা জবাবে হুঁশিয়ারি
রাশেদের এমন বক্তব্যের পর শনিবার দুপুরে পাল্টা পোস্ট দেন খালিদুজ্জামান।
সেখানে তিনি রাশেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইঙ্গিত দেন, মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।