মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনের শাসন নিয়ে বিতর্ক, ফেসবুকে কড়া সমালোচনা ঢাকা-৬ আসনের এমপির
মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। নাহিদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি এনসিপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন ইশরাক।
ফেসবুক পোস্টে ইশরাক অভিযোগ করেন, মাদকের মহামারি ও এর প্রতিকার নিয়ে আলোচনা না করে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, মাদক সমস্যার সমাধান নিয়ে আগে আলোচনা করা উচিত ছিল।
ইশরাক লেখেন, তিনি নাহিদ ইসলামকে নতুন বন্দোবস্তের একজন ধারক হিসেবে বিবেচনা করতেন। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তাঁর সেই ধারণা বদলে গেছে। এ সময় তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, এনসিপির মাধ্যমে নতুন বন্দোবস্ত পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
পোস্টে ইশরাক আরও দাবি করেন, মাদক দেশের তরুণদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন মেনে এবং পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার পরও এ ধরনের উদ্যোগের কারণে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ করে ইশরাক লেখেন, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলে মামলা করা হোক। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজেই আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যেতে প্রস্তুত বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।
এনসিপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন ইশরাক। তাঁর দাবি, বর্তমান পদ্ধতিতে রাজনীতি করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি পোস্টের শেষাংশে লেখেন, ‘বড় ডিলার/বিক্রেতারা অপেক্ষা করো। শিগগির আসিতেছে।’
তবে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং এ বিষয়ে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।