জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কমিটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনুমোদনে গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি ঘোষণা করায় দলটির গণতান্ত্রিক চর্চা ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখিয়ে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। যারা প্রতিনিয়ত গণতন্ত্রের কথা বলে এবং বিএনপির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা নিজেরাই একটি কাউন্সিল আয়োজন করতে পারেনি।
রাশেদ খাঁনের মতে, এর মাধ্যমে এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে।
জামায়াতবিরোধীদের পদাবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ
এনসিপির নতুন কমিটি গঠনে জামায়াতের প্রভাব রয়েছে দাবি করে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘যতোটুকু তথ্য পেয়েছি, জামায়াতের অনুমোদনে এনসিপির এই নতুন কমিটি হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত যাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চায়নি, নতুন কমিটিতে তাদের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এনসিপির মধ্যে যারা স্বতন্ত্র রাজনীতির পক্ষে কিংবা জামায়াতবিরোধী অবস্থানে রয়েছেন, তাদের পদাবনতি হয়েছে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন কয়েকজনকে নতুন কমিটির শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পোস্টে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি রাশেদ খাঁন।
এনসিপিকে ‘প্রক্সি জামায়াত পার্টি’ আখ্যা
এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, নতুন কমিটি ঘোষণার পর দলটি জামায়াতের যুব শাখার মতো আবির্ভূত হয়েছে বলে বঞ্চিতদের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেউ দুইবারের বেশি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন না। নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের ক্ষেত্রে এই বিধান কতটা কার্যকর হয়, সেটিও দেখার বিষয়।
রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপি যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন ধারণ করে নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দিতে পারত, তাহলে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তৈরি রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে দলটিকে সবাই স্বাগত জানাত।
কিন্তু নতুন কমিটির কাঠামো দেখে তার মনে হয়েছে, নির্বাচনী আসন ও নির্বাচনী খরচের বিনিময়ে দলটি জামায়াতের কাছে রাজনৈতিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছে।
পোস্টের শেষ দিকে তিনি মন্তব্য করেন, এনসিপিকে বর্তমানে ‘প্রক্সি জামায়াত পার্টি’ বললেও ভুল হবে না।
এনসিপির ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা
এর আগে শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দলটির ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কমিটি প্রকাশ করা হয়।
নতুন কমিটিতে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আবার আগের কমিটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার পদেও পরিবর্তন এসেছে।
নতুন কমিটির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো হলো—
নেতার নাম | নতুন পদ |
|---|---|
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী | জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক |
হাসনাত আবদুল্লাহ | জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক |
সারজিস আলম | জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব |
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া | জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব |
সামান্তা শারমিন | যুগ্ম আহ্বায়ক |
আরিফুল ইসলাম আদীব | যুগ্ম আহ্বায়ক |
আবদুল হান্নান মাসউদ | যুগ্ম আহ্বায়ক |
নাহিদা সারোয়ার নিভা | যুগ্ম সদস্যসচিব |
পুনর্গঠিত কমিটিতে সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ ও নাহিদা সারোয়ার নিভার আগের জ্যেষ্ঠ পদ পরিবর্তন করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নতুন কমিটি ঘিরে রাশেদ খাঁনের এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রদত্ত তথ্যে এনসিপি কিংবা জামায়াতে ইসলামীর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার উল্লেখ নেই।