বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জোট গঠন করেনি বলে দাবি করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ১৯৯৪-৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবিতে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো একটি ‘লিয়াজোঁ কমিটি’ গঠন করেছিল। তবে সেটি কোনো রাজনৈতিক জোট ছিল না।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত অতীতে বিএনপির সঙ্গে চারদলীয়, ১৮ দলীয় ও ২০ দলীয় জোটে থাকলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে কখনো জোট করেনি। তৎকালীন বিএনপি সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন পরিচালনার জন্য লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, ১৯৮০ সালে দলটির তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার চিন্তাধারা ও রূপরেখা তুলে ধরেন। পরে জামায়াতের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমির আব্বাস আলী খান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে এ প্রস্তাব গ্রহণের অনুরোধ জানান।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের সময় জামায়াত নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছিল। সে সময় তৎকালীন সংসদ সদস্য মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের বিল জমা দেওয়া হলেও তা আলোচনায় আনা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে মাগুরা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন জোরালো হলে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে বিএনপি সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের বিল পাস করে সংসদ ভেঙে দেয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল দাবি করেন, তৎকালীন বিএনপি সরকারের অবস্থানের কারণেই পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়েছিল। তাই জামায়াত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে—এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাবেক চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বরগুনায় দেওয়া একটি বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হলে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হবে না—এমন বক্তব্য সংকীর্ণ দলীয়করণের বহিঃপ্রকাশ এবং তা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করে।
এ সময় বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার নবম দফার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রীয় কাঠামো সাজানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বিএনপি নেতাদের তা মনে রাখা উচিত।