২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ পলাতক আসামিদের আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিষয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। সেদিন পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অসুস্থতার কারণে সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে এদিন ট্রাইব্যুনালে আনা হয়নি। হাজির করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু। মামলার আসামি হিসেবে সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর নাম ২৭ জুলাইয়ের প্রকাশিত তালিকাতেও ছিল।
মামলায় পলাতক আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, ইমরান এইচ সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাবেক ও তৎকালীন কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন।
এ তালিকায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং র্যাবের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও রাখা হয়েছে। ২৭ জুলাইয়ের আদেশে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তথ্য একাধিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলায় যে অভিযোগ
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে ঢাকায় ৩২ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, তদন্তে মোট ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে—ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে পাঁচ এবং কুমিল্লায় একজন।
তবে এসব সংখ্যা ও ঘটনাকে মামলার অভিযোগ ও প্রসিকিউশনের দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে; আদালতের চূড়ান্ত রায়ে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো আসামিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
এর আগে ২৭ জুলাই অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। এরই মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিষয়ে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে চিঠি দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পলাতক আসামিরা ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন কি না এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম কীভাবে এগোয়, সেটিই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।