সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় তার মরদেহ বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে নিহত শাহেদের মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাহেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, নিহত শাহেদ আহম্মদ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা। তার দুটি সন্তান রয়েছে। গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে নিহত প্রবাসীদের মধ্যে শাহেদের মরদেহটি ১১তম হিসেবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা
শামা ওবায়েদ জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত শাহেদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের যেকোনো সংকটে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে সরকারি পত্র পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশের কারাগারে বন্দি বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি মূলত ২০২৩ সালের একটি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদেশের কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন।
বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের সাজা হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই তাকে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয় বলে জানান তিনি।