আজকের তারিখঃ 27 অক্টোবর, 2026 সময়ঃ 4:50
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 4 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

পিঠা-পুড়ি থেকে রেস্তোরাঁ, ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

Front line Bangladesh 21 Oct, 2026 • 02:19 PM
ছবির ক্যাপশন: পিঠা-পুড়ি থেকে রেস্তোরাঁ, ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি-পেঁয়াজুর দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—নির্ধারিত শ্রেণির সব খাদ্য ব্যবসাকে নিবন্ধনের আওতায় আনছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে। নির্ধারিত ক্ষেত্রে নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিএফএসএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এ এ বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন প্রবিধানমালায় খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স, স্থাপনার লাইসেন্স, খাদ্য উৎপাদন ও আমদানির লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রবিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও স্থাপনাকে নিবন্ধন নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং নির্ধারিত খাদ্যপণ্যের আমদানিকারক। এ ছাড়া পাইকারি মুদি ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনসংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসাও নিবন্ধনের আওতায় আসবে। এমনকি রাস্তার পাশের পিঠা ও পুরি-পেঁয়াজুর দোকানকেও এ নিয়মের আওতায় আনা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য লাইসেন্স নিতে হবে। স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য এ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাবারও এর আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য ও অভিনব খাদ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। স্বাস্থ্যগত উপকার বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি করে বাজারজাত করা খাদ্যের ক্ষেত্রে ‘নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫’ অনুসরণ করতে হবে।

বিএফএসএ জানিয়েছে, নির্ধারিত ফি পরিশোধ ও শর্ত পূরণ করে নিবন্ধন বা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে।

তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের স্থাপনার লাইসেন্সের ফি আয়তন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের ফি ৬০ হাজার টাকা।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে ভোক্তারা প্যাকেটের নম্বর দেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন। কোনো অভিযোগ থাকলেও নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে তা জানানো যাবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদনব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক এমন ক্ষেত্রে তা ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

বিএফএসএর মতে, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, উৎপাদন ও বিপণনে শৃঙ্খলা আনা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

ট্যাগ
পিঠা-পুড়ি থেকে রেস্তোরাঁ ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
মন্তব্য করুন
Front line Bangladesh
অনলাইন সংস্করণ • 21 Oct, 2026 • 02:19 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)